শামুকতলা: কালো কাপড় বেঁধে বাইকে এসে পেট্রোল পাম্পের এক কর্মীর মাথায় গুলি চালিয়ে পালিয়ে গেল তিন দুষ্কৃতী। সোমবার রাত ১১টা নাগাদ ঘটনাটি ঘটেছে ৩১ সি জাতীয় সড়কের পাশে শামুকতলা থানার চালতা তলা এলাকার একটি পেট্রোল পাম্পে। এই ঘটনায় গুরুতর জখম অবস্থায় শিলিগুড়ির একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন গুলিবিদ্ধ পেট্রোল পাম্প কর্মী। ঘটনার পর প্রায় ২৪ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও গুলি চালনার ঘটনার কিনারা করতে পারেনি শামুকতলা পুলিশ। পেট্রোলপাম্পের সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে দুষ্কৃতীদের চিহ্নিত করার চেষ্টা করছের পুলিশ।
জানা গিয়েছে, এদিন রাতে পেট্রোল পাম্পে নাইট ডিউটিতে ছিলেন অশোক মণ্ডল ও ষষ্ঠী দাস নামে দুই কর্মী। রাত ১১টা নাগাদ ষষ্ঠী ঘুমাচ্ছিলেন পাম্পের পিছনে একটি ঘরে। ফলে একাই ডিউটি দিচ্ছিলেন অশোক। সেই সময় একটি বাইকে মুখে কালো কাপড় বেঁধে তেল ভরার অছিলায় পাম্পে ঢোকে তিন দুষ্কৃতী। কিন্তু দুষ্কৃতীদের একজন বাইক থেকে নেমে অশোকের সঙ্গে কোনও বিষয়ে কথা বলেন। এরপরেই কোমর থেকে পিস্তল বের করে অশোককে লক্ষ্য করে গুলি চালায় দুষ্কৃতী। গুলি লাগে অশোকের মাথায়। গুলি চালিয়ে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায় তিন দুষ্কৃতী।
এদিকে গুলির আওয়াজে ঘুম ভেঙে যাওয়ায় ঘটনাস্থলে আসে সহকর্মী ষষ্ঠি। ষষ্ঠীর চিৎকারে ঘটনাস্থলে আসে স্থানীয়রা। রক্তাক্ত অবস্থায় অশোককে উদ্ধার করে প্রথম নিয়ে যায় শামুকতলা হাসপাতালে। পরে তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাওয়া হয় শিলিগুড়ির একটি বেসরকারি হাসপাতালে। সেখানে অস্ত্রোপচার করে মাথা থেকে গুলি বের করা হলেও এখনও সংজ্ঞাহীন অশোক।
এদিকে, এই ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখার জন্য জোর তদন্ত শুরু করেছে আলিপুরদুয়ার জেলা পুলিশ। পুলিশে এক কর্তা জানান, ছিনতাই বা টাকা লুট করার জন্য যে ওই দুষ্কৃতীরা পেট্রোল পাম্পে আসেনি সেটা পরিষ্কার। কারণ অশোক মণ্ডলের ব্যাগে প্রচুর টাকা ছিল, সেই টাকায় হাত দেয়নি দুষ্কৃতীরা। তাহলে কেন তাকে এভাবে গুলি করল দুষ্কৃতীরা সেটা পুলিশকর্তাদের কাছেও এখন রহস্যের। আলিপুরদুয়ার জেলা পুলিশ সুপার ওয়াই রঘুবংশী জানান, সোমবার গভীর রাতে একটি ঘটনা ঘটে গেছে। আমরা গুরুত্ব দিয়ে এই ঘটনা তদন্ত করছি।
