মালদা: শনিবার ব্রিগেডে প্রধানমন্ত্রীর জনসভায় (PM Narendra Modi Assembly) যোগ দিতে গিয়ে কলকাতার রানী রাসমণি রোডে বিশৃঙ্খলা ও তাণ্ডব চালানোর অভিযোগ উঠল বিজেপির একাংশের বিরুদ্ধে। সেই ঘটনার একটি ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হতেই শোরগোল পড়ে গিয়েছে। ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, তাণ্ডব চালানোর নেতৃত্বে রয়েছেন হলুদ পাঞ্জাবি পরা এক তরুণ। খোঁজ নিতেই জানা যায়, ওই ব্যক্তি আর কেউ নন, মালদা জেলা পরিষদের বিজেপি সদস্য তারাশঙ্কর রায় (BJP Chief Tarashankar Roy)।
ইতিমধ্যেই এই ঘটনায় পুলিশ স্বতঃপ্রণোদিত মামলা দায়ের করেছে এবং ৫৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে মূল অভিযুক্ত তারাশঙ্কর রায় বর্তমানে পলাতক। পুলিশি সূত্রের খবর, সোমবার ভোরে অভিযুক্তের খোঁজে পুরাতন মালদা পুরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডে উত্তর মালদার (Malda) বিজেপির সাংগঠনিক জেলা সম্পাদক স্নেহাংশু ভট্টাচার্যের বাড়িতে চিরুনি তল্লাশি চালায় পুলিশ। যদিও সেখানে তারাশঙ্করের হদিশ মেলেনি।
গা ঢাকা দেওয়ার আগে মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে তারাশঙ্কর জানান, “দেশের প্রধানমন্ত্রী শুধু দেশের নয়, সারা বিশ্বের নেতা। তাঁকে অপমানের প্রতিবাদ জানিয়েছিলাম। আমি কাউকে হেনস্থা করিনি।” অন্যদিকে, পুলিশের এই অভিযানে ক্ষুব্ধ বিজেপি নেতা স্নেহাংশু ভট্টাচার্য। তাঁর দাবি, পুলিশ তৃণমূলের ‘দলদাস’ হয়ে কাজ করছে এবং গায়ের জোরে ক্ষমতা দেখাচ্ছে।
পাল্টা আক্রমণে নেমেছে তৃণমূল কংগ্রেস (TMC)। পুরাতন মালদা পুরসভার তৃণমূল কাউন্সিলর শত্রুঘ্ন সিনহা বর্মা বলেন, “তারাশঙ্কর যে কাজ করেছে তা জঘন্য। সে যে একজন সমাজবিরোধী, এই ঘটনাই তার প্রমাণ। পুলিশকে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।” জেলা তৃণমূল সভাপতি আব্দুর রহিম বক্সী বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর নাম না করে কটাক্ষ করে বলেন, “যেমন গুরু তেমন শিষ্য। এরা সন্ত্রাস দেখেই বড় হচ্ছে। মানুষ ভোটে এর যোগ্য জবাব দেবে।”
ভোটের মুখে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে মালদা জেলা জুড়ে রাজনৈতিক পারদ চড়তে শুরু করেছে। তারাশঙ্কর রায়ের খোঁজে পুলিশি তল্লাশি জারি রয়েছে।
