সামসী: রাজ্য সরকারের সবুজ সংকেত মিলেছে, অনুমোদন পেয়েছে ঋণও। অথচ মাসের পর মাস পেরিয়ে গেলেও মিলছে না কাঙ্ক্ষিত অর্থ। এই অভিযোগে সোমবার উত্তাল হয়ে উঠল চাঁচল-২ ব্লকের চন্দ্রপাড়া এলাকা। একটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কের ম্যানেজারকে ঘিরে ধরে দীর্ঘক্ষণ বিক্ষোভ দেখালেন স্বনির্ভর গোষ্ঠীর সদস্যারা। পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যে, শেষ পর্যন্ত পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
ক্ষোভের কারণ কী?
চন্দ্রপাড়া গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় প্রায় ৬০০টি স্বনির্ভর গোষ্ঠী রয়েছে। অভিযোগ, এর মধ্যে অন্তত ৩৫টি গোষ্ঠীর ঋণের টাকা মঞ্জুর হয়ে থাকলেও ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষ তা বিতরণে চরম গড়িমসি করছে। এদিন সকালে প্রায় মহিলারা ব্যাঙ্কে জড়ো হয়ে ক্ষোভ উগরে দেন। তাঁদের দাবি:
• ঋণ অনুমোদিত হওয়ার পর বারবার ব্যাঙ্কে এলেও খালি হাতে ফিরতে হচ্ছে।
• টাকা না পাওয়ায় থমকে গেছে ছোটখাটো ব্যবসা বা স্বনির্ভর হওয়ার পরিকল্পনা।
• ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষের ‘অজুহাত’ আর নিতে রাজি নন তাঁরা।
অবরুদ্ধ ম্যানেজার ও পুলিশের হস্তক্ষেপ
বিক্ষুব্ধ মহিলারা ব্যাঙ্কের ম্যানেজার সৌরভ কুমার মল্লিককে তাঁর কেবিনেই ঘিরে ধরেন। দ্রুত টাকা অ্যাকাউন্টে পাঠানোর দাবিতে চলে স্লোগান। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় স্থানীয় থানার পুলিশ। পুলিশি মধ্যস্থতায় উভয় পক্ষের মধ্যে আলোচনা শুরু হলে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হয়।
ব্যাঙ্কের সাফাই: কর্মীসংকটই বাধা
ঘটনাপ্রসঙ্গে ব্যাঙ্ক ম্যানেজার সৌরভ কুমার মল্লিক জানান, এসআইআর সংক্রান্ত কাজে বেশ কিছু কর্মী নিযুক্ত থাকায় শাখায় কর্মীসংকট তৈরি হয়েছে। সেই কারণেই ঋণ বিতরণে বিলম্ব হচ্ছে। তবে দ্রুত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে ঋণের টাকা প্রদান করা হবে বলে আশ্বাস দেন তিনি।ঘটনাকে ঘিরে এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়ালেও প্রশাসনের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি আপাতত স্বাভাবিক হয়েছে।
