উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: রুশ তেল (Russian Oil) কেনা নিয়ে ভারত ও আমেরিকার মধ্যেকার চাপানউতোর এবার নয়া মোড় নিল। ভারত রাশিয়ার থেকে তেল কেনা বন্ধ করতে সম্মত হয়েছে— ওয়াশিংটনের এই দাবিকে কার্যত নস্যাৎ করে দিল মস্কো। বুধবার রাশিয়ার বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র মারিয়া জাখারোভা (Maria Zakharova) স্পষ্ট জানিয়েছেন, ভারতের অবস্থানে বদল এসেছে বলে বিশ্বাস করার কোনও কারণ নেই। তাঁদের মতে, দুই দেশের এই বাণিজ্যিক সম্পর্ক কেবল দ্বিপাক্ষিক স্বার্থেই নয়, বরং বিশ্ব বাজারের স্থিতিশীলতার জন্যও অত্যন্ত জরুরি (India-Russia Oil Commerce)।
সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump) এবং বিদেশ সচিব মার্কো রুবিও দাবি করেছিলেন, ভারত রাশিয়ার থেকে অপরিশোধিত তেল আমদানি বন্ধ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। বিনিময়ে ভারতীয় পণ্যের ওপর মার্কিন শুল্ক ৫০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৮ শতাংশে নামিয়ে আনা হয়েছে (US-India)। উল্লেখ্য, গত বছর রুশ তেল কেনার ‘শাস্তি’ হিসেবে ভারত থেকে রপ্তানি হওয়া পণ্যের ওপর ২৫ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্ক চাপিয়েছিলেন ট্রাম্প। তবে সেই শুল্ক ছাড়ের ঘোষণার পরই আমেরিকা দাবি করে, দিল্লি এবার মস্কোর থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবে।
রুশ মুখপাত্র জাখারোভা আমেরিকার এই মনোভাবকে ‘স্বৈরাচারী’ বলে কটাক্ষ করেছেন। তিনি বলেন, ‘আমেরিকা অন্য স্বাধীন রাষ্ট্রকে নির্দেশ দেওয়ার অধিকার দখল করেছে। ভারতের শক্তি সংগ্রহের নীতি তার জাতীয় স্বার্থের ওপর নির্ভরশীল।’ মস্কোর অভিযোগ, ভারত যাতে সস্তায় রুশ তেল না পায়, তার জন্য ওয়াশিংটন নিষেধাজ্ঞা এবং শুল্কের মতো ‘দমনমূলক’ কৌশল ব্যবহার করছে।
আশ্চর্যের বিষয় হল, ওয়াশিংটনের এই দাবি নিয়ে ভারত সরকার এখনও পর্যন্ত কোনও সরাসরি সিলমোহর বা অস্বীকার— কিছুই করেনি। তবে সাউথ ব্লক বারবার একটি কথাই বলছে যে, ভারতের জ্বালানি আমদানির প্রধান মাপকাঠি হবে ‘জাতীয় স্বার্থ’। বিশ্লেষকদের মতে, একদিকে আমেরিকার সঙ্গে বাণিজ্যিক সুবিধা নেওয়া এবং অন্যদিকে রাশিয়ার থেকে সস্তায় জ্বালানি আমদানি বজায় রাখা— এই দুইয়ের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখাই এখন দিল্লির বড় চ্যালেঞ্জ।
