উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যে ইরান, ইজরায়েল ও আমেরিকার মধ্যে চলমান যুদ্ধের কারণে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে স্ট্রেইট অফ হরমুজ (Strait of Hormuz) রুটে উত্তেজনার ফলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম এক সপ্তাহে প্রায় ৩০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এই সংকটকালীন পরিস্থিতিতে শনিবার কড়া বার্তা দিল ভারত সরকার। কেন্দ্র স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, জাতীয় স্বার্থে যে দেশ সবথেকে প্রতিযোগিতামূলক এবং সস্তা দরে তেল দেবে, তাদের থেকেই ভারত অপরিশোধিত তেল কেনা জারি রাখবে।
রাশিয়ার তেল কেনায় কোনো দেশের অনুমতির প্রয়োজন নেই
সম্প্রতি আমেরিকা মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের আবহে রুশ তেলের ওপর সাময়িক ছাড় বা ‘ওয়েভার’ দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছে। তবে ভারত সরকারের পক্ষ থেকে আজ সাফ জানানো হয়েছে, রাশিয়ার থেকে তেল আমদানির জন্য নয়াদিল্লি কোনো দেশের অনুমতির ওপর নির্ভরশীল নয়।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে: “ভারত কখনোই রুশ তেল কেনার জন্য অন্য কোনো দেশের অনুমতির তোয়াক্কা করেনি। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতেও রাশিয়া ভারতের বৃহত্তম অপরিশোধিত তেল সরবরাহকারী দেশ হিসেবে বজায় রয়েছে। বিগত তিন বছর ধরে ইউক্রেন যুদ্ধের মধ্যেও আমেরিকা বা ইউরোপের আপত্তি উপেক্ষা করে ভারত তার জ্বালানি চাহিদা পূরণ করেছে।”
মজুত ভাণ্ডারে স্বস্তি: ৭-৮ সপ্তাহের বাফার স্টক
বিশ্ববাজারে তেলের দাম এক দিনেই ৮.৫ শতাংশ বাড়লেও ভারতের অভ্যন্তরীণ সংকটের সম্ভাবনা উড়িয়ে দিয়েছে কেন্দ্র। সরকারি তথ্য অনুযায়ী:
• ভারতের কাছে বর্তমানে ২৫০ মিলিয়ন ব্যারেলেরও বেশি অপরিশোধিত তেল ও পেট্রোলিয়ামজাত পণ্যের মজুত রয়েছে।
• এই মজুত ভাণ্ডার দেশের প্রায় ৭ থেকে ৮ সপ্তাহের ব্যবহারের জন্য যথেষ্ট।
• ভারতের বার্ষিক তেল শোধন ক্ষমতা বর্তমানে ২৫৮ মিলিয়ন মেট্রিক টন, যা দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদার তুলনায় অনেক বেশি।
ট্রাম্পের মন্তব্য ও বাজারের অস্থিরতা
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্য—যেখানে তিনি ইরানের ‘নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ’ দাবি করেছেন—তার ফলে বিশ্ববাজারে তেলের বাজারে আগুন লেগেছে। এই অস্থিরতার মাঝেও ভারত তার আমদানির উৎস ২৭টি দেশ থেকে বাড়িয়ে বর্তমানে ৪০টি দেশে উন্নীত করেছে, যাতে কোনো একটি নির্দিষ্ট রুটে সমস্যা হলেও দেশের জ্বালানি সরবরাহ বিঘ্নিত না হয়।
