ডোনাল্ড ট্রাম্পের চাপে পড়ে রুশ তেল কেনা মোটেই কমাচ্ছে না ভারত। সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে রাশিয়ার বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র মারিয়া জাখারোভা বলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্টের কথায় নতুন কিছুই নেই। তবে রাশিয়া থেকে তেল কেনা নিয়ে ভারত অবস্থান বদল করেছে সেটা বিশ্বাস করার মতো কোনও ঘটনা ঘটেনি। উল্লেখ্য, বুধবার সকালেই খবর ছড়ায়, গত জানুয়ারির তুলনায় এবছরের জানুয়ারিতে রাশিয়ার থেকে ৪০.৫ শতাংশ তেল কম কিনেছে ভারত।
আরও পড়ুন:
চলতি মাসের গোড়ার দিকে বাণিজ্য চুক্তির ঘোষণায় ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, রুশ তেল না কেনা এবং পাঁচ বছরে ৪৫ লক্ষ কোটি টাকার মার্কিন পণ্য কেনার শর্তে বাণিজ্য চুক্তি করতে চলেছে ভারত ও আমেরিকা। পাশাপাশি মার্কিন বিদেশ সচিব মার্কো রুবিও দাবি করেন, রাশিয়া থেকে তেল কেনা বন্ধ করবে ভারত। তারপর থেকেই একাধিকবার প্রশ্ন ওঠে, তাহলে কি বাণিজ্যচুক্তির চাপে পড়ে সত্যিই রাশিয়া থেকে তেল আমদানি বন্ধ করে দেবে ভারত? এই প্রশ্নের জবাবে হ্যাঁ বা না কোনওটাই বলেনি নয়াদিল্লি।
এহেন পরিস্থিতিতে বুধবার প্রকাশ্যে আসে সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের এক রিপোর্ট। সেখানে দাবি করা হয়, ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে যেখানে ৪.৮১ বিলিয়ন ডলারের পণ্য আমদানি করা হয়েছিল রাশিয়া থেকে, সেখানে এবারের জানুয়ারিতে মাত্র ২.৮৬ বিলিয়ন ডলারের পণ্যই আমদানি করেছে ভারত। এই পরিসংখ্যান থেকে স্পষ্ট, রুশ তেল কেনা বন্ধ করাতেই এই অবনতি। আসলে রাশিয়ার থেকে মোট যা পণ্য আমদানি করে ভারত, তার ৮০ শতাংশই রুশ তেল। ফলে তা কেনা কমালেই সামগ্রিক ছবিটাও বদলে যাবে সেইমতো।
আরও পড়ুন:
কিন্তু বুধবার বিকেলেই রাশিয়ার তরফ থেকে স্পষ্ট করে দেওয়া হয়, রুশ তেল কেনার ক্ষেত্রে ভারতের অবস্থানে কোনও পরিবর্তন আসেনি। জাখারোভার কথায়, “ভারত রুশ তেল আমদানি করায় দুই দেশই লাভবান হয়, বিশ্বের তেলের বাজারে স্থিতাবস্থা বজায় থাকে। ভারত যে রুশ তেল কেনা বন্ধ করেছে এমনটা বিশ্বাস করার কোনও কারণ নেই। মার্কিন প্রেসিডেন্ট বা বিদেশসচিবের কথায় নতুন কিছু নেই কারণ তাঁরা স্বাধীন দেশের অধিকার ছিনিয়ে নিতে উঠেপড়ে লেগেছেন।” তাহলে কি আমেরিকার চাপ সামলেও রুশ তেল কেনা অব্যাহত রাখছে ভারত? জবাব অধরাই।
সর্বশেষ খবর
