কুমারগঞ্জ: সাত বছরের দাম্পত্য জীবন লুকিয়ে রূপশ্রী প্রকল্পে টাকা নেওয়ার চেষ্টা ব্যর্থ করল প্রশাসন। ভুয়ো বিয়ের কার্ড ছাপিয়ে মহিলা জমাও করেছিলেন নির্দিষ্ট স্থানে। কার্ডে বিয়ের তারিখ লেখা ছিল ১৩ ডিসেম্বর। কিন্তু বিষয়টি খতিয়ে দেখতে একদিন আগেই মহিলার বাড়িতে আসেন কুমারগঞ্জ ব্লকের কর্মীরা। এরপরেই ফাস হয়ে যায় মহিলার কারসাজি।
ঘটনাটি ঘটেছে কুমারগঞ্জ ব্লকে। এই ব্লকের সুন্দরপুর গ্রামের বাসিন্দা রোকেয়া এবং তাঁর বাবা রফিকুল মণ্ডল রূপশ্রীর টাকার জন্য একটি বিয়ের কার্ড জমা করেন নির্দিষ্ট জায়গায়। কার্ডে স্পষ্ট লেখা ছিল, ১৩ ডিসেম্বর সাহাবাজপুরের খাইরুল মোল্লার সঙ্গে রোকেয়ার বিয়ে। কিন্তু আজ কুমারগঞ্জ ব্লকের তদন্তকারী দল গ্রামে পৌঁছে পুরো ঘটনায় হতবাক। দেখা যায়, রোকেয়া বেগমের বিয়ে একই ব্যক্তি—সাহাবাজপুরের খাইরুল মোল্লার সঙ্গেই সাত বছর আগেই হয়ে গেছে এবং তাদের দু’টি সন্তানও রয়েছে। একজনের বয়স ছয় বছর, অপরজনের পাঁচ। শুধু তাই নয়, রূপশ্রীর আবেদনের বিষয়টি রোকেয়ার বাবা-মায়ের দাবি, বিষয়টি তাঁদের জানা ছিল না। বাবা রফিকুল মণ্ডল জানান, কয়েকদিন আগে মেয়ে এসে জরুরি কাগজপত্রের অজুহাতে তাঁর সই নিয়ে যায়। কিন্তু সেই সই কোন কাজে ব্যবহার হবে তা তিনি জানতেন না।
ঘটনার পর থেকেই আতঙ্কে রয়েছেন রোকেয়ার বাবা-মা। তাঁরা জানান, ব্লকের টিম চলে যাওয়ার পর থেকে মেয়ের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও কোনওভাবে যোগাযোগ করতে পারছেন না। মা সানছুর নেহার বিবি বলেন, ‘মেয়ের বিয়ে সাত বছর আগে দিয়েছি। দু’টো সন্তান রয়েছে। তারপরও সে কেন এমন আবেদন করল, আমরা কিছুই বুঝতে পারছি না। এখন ব্লকের লোক এসে যাওয়ায় উলটো আমরাই বিপদে পড়েছি।’
বিডিও শ্রীবাস বিশ্বাস বলেন, ‘অনেকেই ভাবছেন এসআইআর আবহে সবাই হয়তো ব্যস্ত থাকবে তাই তদন্ত হবে না ভেবে অনেকেই ভুয়ো তথ্য দিয়ে আবেদন করেন। কিন্তু আমরা প্রতিটি আবেদনই যাচাই করি। চলতি বছরে এমন ১৫টি আবেদন নাকচ হয়েছে।’
প্রশাসনের বক্তব্য, ভুয়ো আবেদনকারীদের বিরুদ্ধে ভবিষ্যতে আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
