মালবাজার: উত্তরবঙ্গের জেলাগুলিতে ভোটার তালিকা সংশোধনের বিশেষ প্রক্রিয়া বা এসআইআর (SIR Listening to) নিয়ে আমজনতার ক্ষোভ ও বিভ্রান্তি দূর করতে বুধবার মাল মহকুমা পরিদর্শনে এলেন রাজ্যের মুখ্য রোল অবজারভার সুব্রত গুপ্ত (Roll Observer Subrata Gupta)। মহকুমা শাসকের দপ্তরে পৌঁছে তিনি সরাসরি সাধারণ ভোটারদের সঙ্গে কথা বলেন এবং এই প্রক্রিয়া নিয়ে অহেতুক আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ দেন।
বুধবার সকালে মাল মহকুমা শাসকের দপ্তরে যান সুব্রত গুপ্ত। তাঁর সঙ্গে ছিলেন মহকুমা শাসক উৎকর্ষ খান্ডাল এবং মাল ব্লকের বিডিও রশ্মিদীপ্ত বিশ্বাস। কুমলাই, তেশিমলা, বাগ্রাকোট ও ওদলাবাড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতের কয়েকশো মানুষ তখন নথিপত্র নিয়ে শুনানির লাইনে দাঁড়িয়ে। পর্যবেক্ষক প্রতিটি কক্ষ ঘুরে দেখেন এবং মানুষের অভাব-অভিযোগ শোনেন।
লাইলে দাঁড়ানো অনেক ভোটারই উগ্র মেজাজে তাঁদের হয়রানির কথা জানান। তেশিমলার এক সমাজসেবী ফিরদৌস আলী প্রশ্ন তোলেন, “ছয়জনের বেশি সন্তান থাকলে কেন আলাদা করে নোটিশ দেওয়া হচ্ছে?” জবাবে সুব্রত বাবু তৎক্ষণাৎ বিষয়টির ব্যাখ্যা দেন এবং জানান যে এটি একটি সাধারণ প্রক্রিয়া মাত্র, এতে ভয়ের কিছু নেই।
মহকুমা শাসক উৎকর্ষ খান্ডাল আশ্বাস দিয়েছেন যে, অসুস্থ, প্রবীণ নাগরিক, গর্ভবতী মহিলা বা সদ্য মা হওয়া ভোটারদের জন্য বিশেষ শুনানির ব্যবস্থা করা হবে। প্রয়োজনে বিকল্প পদ্ধতিতে তাঁদের তথ্য যাচাই করা হবে। বাগ্রাকোটের এক বিএলও (নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক) জানান, অত্যন্ত অল্প সময়ে এই বিশাল কাজ করতে গিয়ে কর্মীরা অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। এই কাজের জন্য আরও সময় প্রয়োজন।
সুব্রত গুপ্ত স্পষ্ট জানান, “কিছু অসাধু মানুষ ও রাজনৈতিক দল জনগণকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে। এই মহাযজ্ঞ সফল করতে সবার সহযোগিতা প্রয়োজন।”
মালবাজারের শুনানি প্রক্রিয়া খতিয়ে দেখে তিনি মেটেলী ব্লকে যান। কোচবিহার ও আলিপুরদুয়ার জেলা ঘুরে জলপাইগুড়ি জেলার কাজেও তিনি সন্তোষ প্রকাশ করেন। প্রশাসনের সহযোগিতায় কাজ দ্রুত এগোচ্ছে বলে তিনি সংবাদমাধ্যমকে জানান।
