শিলিগুড়ি: খোদ সরকারি কর্মীর নামই বাদ পড়ল চূড়ান্ত ভোটার তালিকা থেকে (Remaining Voter Listing)। রাজ্যের শ্রম দপ্তরে কর্মরত সুজয় সরকারের অভিযোগ, নির্বাচন কমিশনের (Election Fee) গাফিলতির জেরে চূড়ান্ত তালিকা থেকে তাঁর নাম ‘ডিলিটেড’ বা কেটে দেওয়া হয়েছে। যা নিয়ে কমিশনের বিরুদ্ধে রীতিমতো ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন তিনি।
জানা গিয়েছে, ১৯৯১ সালে জন্ম সুজয়ের। ফলে স্বাভাবিকভাবেই ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় তাঁর নাম ছিল না। তবে তাঁর বাবা-মা দুজনের নামই ২০০২ সালের তালিকায় ছিল। গত বছর বাংলায় এসআইআর প্রক্রিয়া শুরু হলে তিনি এনুমারেশন ফর্ম জমা দেন। সেখানে ‘প্যারেন্টাল লিঙ্কেজ’ হিসেবে বাবা সুবীর সরকারের নাম উল্লেখ করেছিলেন তিনি। এরপর গত ডিসেম্বরে খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশিত হলে দেখা যায়, তাঁর নাম রয়েছে ৭৪২ নম্বরে। এবং বাবার নামও সঠিকই রয়েছে। কিন্তু এরপর এসআইআরের শুনানিতে তাঁর ডাক পড়ে। এবং তিনি প্রমাণ হিসেবে জন্মের শংসাপত্র দেখিয়েছিলেন।
অভিযোগ, এরপরই গোপন সূত্রে সুজয় জানতে পারেন, তাঁর বাবার নাম সুবীর সরকারের বদলে ‘গৌতম রায় চৌধুরী’ এবং মা ইলা সরকারের বদলে ‘মালা রায় চৌধুরী’ করে দেওয়া হয়েছে তালিকায়। মা-বাবার নাম এভাবে সম্পূর্ণ বদলে যাওয়ায় কার্যত স্তম্ভিত হয়ে যান তিনি। এরপর গতকাল থেকে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া একটি নম্বরে মেসেজ করে নিজের নাম চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় রয়েছে কিনা, তা দেখার চেষ্টা করলেও ব্যর্থ হন তিনি। কারণ তাঁর ক্ষেত্রে বারবারই সংশ্লিষ্ট বিএলওর সঙ্গে যোগাযোগের নির্দেশ দেওয়া হচ্ছিল। তাই উপায় না পেয়ে সুজয় বিএলওর সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তখন ওই বিএলও চূড়ান্ত ভোটার তালিকা থেকে সুজয়ের নাম কেটে যাওয়ার আশঙ্কাই প্রকাশ করেন।
আর শনিবার প্রকাশিত চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় দেখা যায় সেই আশঙ্কাই সত্যি হয়েছে। দেখা যায়, সুজয়ের নামের পাশে জ্বলজ্বল করছে ‘ডিলিটেড’ শব্দবন্ধটি। এই পরিস্থিতিতে নিজের অধিকার ফিরে পেতে এবং এই নজিরবিহীন ত্রুটির প্রতিকার চেয়ে সরব হয়েছেন সুজয়। এক সরকারি কর্মীর সঙ্গেই যদি এমনটা ঘটে, তবে সাধারণ মানুষের অবস্থা কী হতে পারে, সেই প্রশ্নই এখন বড় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
