রানিগঞ্জ: সোমবার সন্ধ্যায় ১৯ নম্বর জাতীয় সড়কের রানিগঞ্জ বোগড়া মোড় এলাকায় এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের সাক্ষী থাকল সাধারণ মানুষ। দক্ষিণবঙ্গ রাষ্ট্রীয় পরিবহন সংস্থা (SBSTC)-র একটি চলন্ত বাসে হঠাৎই আগুন লেগে যায়। মুহূর্তের মধ্যে বাসটি দাউদাউ করে জ্বলতে শুরু করে। বাসের ভেতরে থাকা যাত্রীরা আতঙ্কিত হয়ে পড়লেও, দ্রুত বাস থেকে নেমে পড়ায় বড়সড় প্রাণহানির হাত থেকে রক্ষা পাওয়া গেছে।
ঠিক কী ঘটেছিল?
জানা গেছে, সোমবার সন্ধ্যায় বাসটি দুর্গাপুর থেকে আসানসোলের দিকে যাচ্ছিল। রানিগঞ্জের বোগড়া মোড় এলাকায় আসতেই বাসের ইঞ্জিন থেকে ধোঁয়া বেরোতে দেখেন যাত্রীরা। কিছু বুঝে ওঠার আগেই পুরো বাসে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। আতঙ্কে যাত্রীরা হুড়োহুড়ি করে নিচে নেমে আসেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, কয়েক মিনিটের মধ্যেই পুরো বাসটি আগুনের গোলায় পরিণত হয় এবং কার্যত পুড়ে ছাই হয়ে যায়।
উদ্ধারকাজ ও প্রশাসনিক তৎপরতা
ঘটনার খবর পেয়েই স্থানীয় তৃণমূল নেতা সাধন সিং রানিগঞ্জের পাঞ্জাবি মোড় ফাঁড়ির পুলিশ এবং দমকল বিভাগে খবর দেন। দ্রুত দমকলের একটি ইঞ্জিন ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার কাজ শুরু করে। তবে অগ্নিকাণ্ডের তীব্রতা এতটাই ছিল যে বাসটিকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। অদ্ভুত বিষয় হল, দুর্ঘটনার পর থেকেই বাসের চালক নিখোঁজ।
জাতীয় সড়কে যানজট ও আতঙ্ক
দুর্ঘটনাটি দুর্গাপুর-আসানসোল লেনে ঘটায় ১৯ নম্বর জাতীয় সড়কে যান চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়। পুলিশ পরিস্থিতি সামাল দিতে পাশের লেন দিয়ে ধীরগতিতে গাড়ি চলাচলের ব্যবস্থা করে। দীর্ঘক্ষণ একদিকের রাস্তা অবরুদ্ধ থাকায় ব্যাপক যানজটের সৃষ্টি হয়। পরে পুলিশের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।
আগুনের উৎস কী?
দমকল বিভাগের প্রাথমিক অনুমান, বাসের যান্ত্রিক কোনও ত্রুটি বা শর্ট-সার্কিট থেকেই এই ভয়াবহ আগুনের সূত্রপাত। তবে সঠিক কারণ জানতে তদন্ত শুরু হয়েছে। বাসের ফিটনেস বা রক্ষণাবেক্ষণে কোনও গলদ ছিল কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
