উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: প্রায় এক দশকের পুরোনো ৯ কোটি টাকার চেক বাউন্স মামলা। হাজতবাস থেকে শুরু করে দীর্ঘ আইনি লড়াই— জীবনের কঠিনতম সময় পার করছেন বলিউডের (Bollywood Information) জনপ্রিয় কৌতুক অভিনেতা রাজপাল যাদব (Rajpal Yadav)। সম্প্রতি অন্তর্বর্তীকালীন জামিন পাওয়ার পর সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে নিজের যন্ত্রণার কথা শেয়ার করলেন অভিনেতা। সাফ জানালেন, তিনি কোনো প্রতারক নন, আর কারও থেকে সহানুভূতিও তাঁর কাম্য নয়।
জেলের দিনলিপি ও আদালতের প্রতি আস্থা
দীর্ঘ ১০ বছর আগের এক মামলায় সম্প্রতি জেলেও যেতে হয়েছিল রাজপালকে। সেই অভিজ্ঞতার কথা বলতে গিয়ে তিনি জানান, জেলে সাধারণ বন্দিদের মতোই জীবন কাটিয়েছেন তিনি। “বাকি সবার জন্য যে খাবার তৈরি হতো, আমিও তাই খেয়েছি। আদালতের নির্দেশ মেনে সবটা করেছি,” বলেন অভিনেতা। তাঁর কথায়, আদালত যদি মনে করে তিনি ভুল, তবে তিনি আবারও জেলে যেতে প্রস্তুত। তিনি শুধু চান উচ্চ আদালত তাঁর বক্তব্য একবার মন দিয়ে শুনুক।
“প্রতারক হলে বছরে ১০টা সিনেমা পেতাম না”
মুরালি প্রজেক্টস প্রাইভেট লিমিটেডের থেকে নেওয়া ৫ কোটি টাকা (যা সুদে-আসলে ৯ কোটি হয়েছে) ফেরত দিতে না পারায় তাঁকে ‘প্রতারক’ তকমা দেওয়া হয়েছিল। এর পালটা জবাবে রাজপাল বলেন, “আমি যদি সত্যিই প্রতারক হতাম, তবে এই ইন্ডাস্ট্রির মানুষ আমার সঙ্গে গত ১০ বছর ধরে কাজ করতেন না। আমি বছরে অন্তত ১০টি সিনেমায় কাজ করেছি। ইন্ডাস্ট্রির এই সমর্থনই প্রমাণ করে যে মানুষ আমার ওপর বিশ্বাস রেখেছে।”
সলমন-সোনু সুদের সাহায্য নিয়ে গোপনীয়তা
বিপদে পড়লে বলিউডের ভাইজান সলমন খান (Salman Khan) বা মসিহা সোনু সুদের (Sonu Sood) মতো তারকারা হাত বাড়িয়ে দেন, এমনটা নতুন নয়। শোনা গিয়েছিল, রাজপালকেও তাঁরা আর্থিক সাহায্য করেছেন। কিন্তু এই বিষয়ে সরাসরি মুখ খুলতে চাননি তিনি। রাজপালের বক্তব্য, “কে কত সাহায্য করেছে তা আমি জনসমক্ষে আনতে চাই না। আমি কারও সহানুভূতি চাই না।” তবে সম্প্রতি এক সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বিনোদন জগতের কাছে কাজের আবেদন জানিয়ে বলেছিলেন, “চরিত্র হবে আমার পছন্দের আর পারিশ্রমিক হবে আপনাদের মর্জিমতো।”
মামলার প্রেক্ষাপট
২০১২ সালে রাজপালের পরিচালিত প্রথম ছবি ‘আতা পাতা লাপাতা’-র জন্য মুরালি প্রজেক্টস থেকে ৫ কোটি টাকা ঋণ নিয়েছিলেন তিনি। ছবিটি বক্স অফিসে মুখ থুবড়ে পড়লে সেই টাকা শোধ করতে হিমশিম খান অভিনেতা। সেই মামলাই এখন আদালতে বিচারাধীন।
