দীপঙ্কর মিত্র, রায়গঞ্জ: রায়গঞ্জ ব্লকের প্রাক্তন বিডিও শ্যারণ তামাংয়ের (Raiganj Former BDO Corruption Row) বিরুদ্ধে বিপুল পরিমাণ আর্থিক দুর্নীতির (Corruption Case) অভিযোগ তুলে রায়গঞ্জ জেলা আদালতে দ্বারস্থ হলেন পঞ্চায়েত সমিতির বিরোধী দলনেতা মলয় সরকার। সোমবার তিনি জেলা আদালতের সিজেএম কোর্টে মামলা দাখিল করেছেন। তাঁর অভিযোগ অনুযায়ী সেই তছরুপের টাকার অঙ্ক পৌনে দুই কোটি টাকার কাছাকাছি।
প্রায় তিন মাস আগে শ্যারণের বিরুদ্ধে ২০২৪-’২৫ এবং ২০২৫-’২৬ অর্থবর্ষে টায়েড গ্র্যান্ট ও ফিফটিনথ ফিন্যান্সের দেওয়া ১ কোটি ৬৭ লক্ষ টাকা তছরুপের অভিযোগ এনে সরব হয়েছিলেন মলয় সহ পঞ্চায়েত সমিতির অন্য সদস্যরা। এই বিষয়ে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বর্তমান বিডিও কামালউদ্দিন আহমেদ সহ পুলিশ প্রশাসনকে আবেদন জানিয়েছিলেন। তাঁদের দাবি, বলার পরেও প্রশাসনের তরফে কোনও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তাই সোমবার তাঁরা আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন বলে মলয় জানান।
মলয় বলেন, ‘অডিটরদের টিফিন, খাওয়া ও থাকা বাবদ তিনদিনে খরচ দেখানো হয়েছে ৪ লাখ ৬০ হাজার টাকা। অডিটরদের পিছনে তিনদিনে এত বিপুল পরিমাণে খরচ হওয়া কী করে সম্ভব?’
অন্যদিকে পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি জয়শ্রী ব্যাপারী বর্মনের দাবি, ‘এব্যাপারে আমি কিছুই জানি না। কারণ চেক ইস্যু করার ক্ষমতা তো আমার হাতে নেই।’ আর রায়গঞ্জের বর্তমান বিডিও কামালউদ্দিন আহমেদ বিষয়টি এড়িয়ে গিয়ে বলেন, ‘এই বিষয়ে আমার কিছু জানা নেই।’
বিরোধী দলনেতা মলয়ের আরও দাবি, ভুয়ো বিল বানিয়ে এভাবে বারবার টাকা তুলে নেওয়া হয়েছে। বিরোধীদের অন্ধকারে রেখে বিভিন্ন ধরনের অনৈতিক কর্মকাণ্ড করা হয়েছে। বিল্ডিং সংস্কার বাবদ ১৩ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা খরচ দেখানো হয়েছে। মলয়ের প্রশ্ন, ‘এই বিপুল পরিমাণ টাকা খরচ করা হল, অথচ অর্থ কমিটির কোনও মিটিং হল না কেন?’ তাঁরা অভিযোগ অনুযায়ী, এক বছরে চায়ের বিল দেখানো হয়েছে ৪১ হাজার টাকা। পতাকা উত্তোলনে খরচ দেখানো হয়েছে ৭৫ হাজার টাকা। পানীয় জলের জন্য খরচ দেখানো হয়েছে প্রায় ৬ লাখ টাকা।
মলয়ের আইনজীবী তন্ময় রাহা বলেন, ‘ই-গ্রাম স্বরোজ পোর্টালে যে স্কিমগুলি ছিল, সেখানে দেখা গিয়েছে কিছু কিছু ক্ষেত্রে মোটা টাকা খরচ করেছেন প্রাক্তন বিডিও, কিন্তু কোন খাতে কত টাকা খরচ করেছেন তার সঠিক হিসেব মলয় পাননি। সেই কারণে আগেই রায়গঞ্জ থানায় অভিযোগ করেছিলেন। তাতে কাজ না হওয়ায় মামলা করেছেন।’
