দীপঙ্কর মিত্র, রায়গঞ্জ: শিক্ষকের অভাবে ধুঁকছে রায়গঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয় (Raiganj College)। ইতিমধ্যে বন্ধ হয়ে গিয়েছে স্ট্যাটিস্টিক্স ডিপার্টমেন্ট। অন্য বিভাগগুলির পঠনপাঠনও বিঘ্নিত হচ্ছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি সম্পর্কে আগ্রহ হারাচ্ছেন পড়ুয়ারা। সমস্যার কথা অস্বীকার করছে না বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ, কিন্তু সমস্যার সমাধান কবে এবং কোন পথে, তা সুনির্দিষ্টভাবে বলতে পারছেন না কেউই। বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার দুর্লভ সরকার বলছেন, ‘স্থায়ী শিক্ষকের ১৫৬টি পদ রয়েছে। কিন্তু শিক্ষক রয়েছেন ৯৩ জন। ৬৩টি পদ শূন্য। চুক্তিভিত্তিক, অস্থায়ী ও অতিথি শিক্ষক মিলিয়ে আরও ৩৫ জন রয়েছেন। তবে বেশকিছু ডিপার্টমেন্টে সমস্যা হচ্ছে। স্ট্যাটিস্টিক্স ডিপার্টমেন্ট বন্ধ। আমরা দীর্ঘদিন পর স্থায়ী উপাচার্য পেয়েছি। আশা করি শূন্যপদগুলি পূরণ হবে।’
কয়েক বছর আগে বিশ্ববিদ্যালয়ে উন্নীত হয়েছে রায়গঞ্জ ইউনিভার্সিটি কলেজ। স্থানীয়রা তো বটেই, বাইরের পড়ুয়াদেরও আগ্রহ বাড়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি সম্পর্কে। বিশ্ববিদ্যালয়ে খোলা হয় একাধিক নতুন ডিপার্টমেন্ট। স্ট্যাটিস্টিক্স (Statistics), ম্যানেজমেন্ট, আইন সহ একাধিক বিভাগে পঠনপাঠন শুরু হয়। প্রথম কয়েক বছর বাইরের শিক্ষকদের দিয়ে স্ট্যাটিস্টিক্স ডিপার্টমেন্ট চালানো হলেও, শেষপর্যন্ত একজনও স্থায়ী অধ্যাপক নিযুক্ত না হওয়ায় ছাত্রছাত্রী কমতে শুরু করে। গত শিক্ষাবর্ষে দুইজন পড়ুয়া স্নাতকোত্তর হওয়ার পর ডিপার্টমেন্টটি সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়। জানা গিয়েছে, এই ডিপার্টমেন্টে ৭টি স্থায়ী শিক্ষক পদ রয়েছে। কিন্তু নিয়োগ হয়নি একজনও। শিক্ষক না থাকায় ইচ্ছে থাকলেও ছাত্রছাত্রীরা এখানে ভর্তি (Schooling Information) হচ্ছেন না। পড়ুয়ারা যেখানে নেই, তখন ডিপার্টমেন্ট খুলে রেখে কী হবে, তাই বন্ধ। তবে বিভাগীয় প্রধানের দায়িত্বে রয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থ বিভাগের অধ্যাপিকা ডঃ শকুন্তলা গুপ্ত। তিনি বলেন, ‘স্নাতক ও স্নাতকোত্তর স্তরে মোট ৭ জন শিক্ষকের স্থায়ী পদ থাকলেও, একজনও নিয়োগ হয়নি। গত বছর দুইজন পড়ুয়া পাশ করে বেরিয়ে যাওয়ার পর নতুন শিক্ষাবর্ষে আর কেউ ভর্তি হয়নি। এতদিন বাইরে থেকে শিক্ষকরা এসে ক্লাস নিতেন। অফিশিয়ালি ডিপার্টমেন্ট আছে, আমাকে দায়িত্বে রেখেছে। ভবিষ্যতে স্থায়ী শিক্ষক এলে অবশ্যই ছাত্রছাত্রী ভর্তি হবে। তবে বিষয়টি নিয়ে চাহিদা রয়েছে পড়ুয়াদের মধ্যে।
স্থায়ী শিক্ষকের অভাব রয়েছে বাংলা, ইংরেজি, সংস্কৃত, ইতিহাস, ম্যানেজমেন্টের মতো বিভাগগুলিতেও। ম্যানেজমেন্ট বিভাগে বিবিএ এবং এমবিএ মিলিয়ে ২০০ জন পড়ুয়া থাকলেও স্থায়ী শিক্ষক রয়েছেন মাত্র দুইজন। পাঁচজন স্থায়ী শিক্ষকের পদ শূন্য। ফলে পড়ুয়াদের প্রতিদিন সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। বাইরে থেকে অতিথি শিক্ষক এনে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা চলছে। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে উচ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিস্থিতি এমন হবে কেন, প্রশ্ন উঠছে শিক্ষক মহলে। ছাত্র নেতা শুভাশিস ঝা’র বক্তব্য, ‘ম্যানেজমেন্ট বিভাগে ভর্তির চাহিদা রয়েছে। স্থায়ী উপাচার্য পেয়েছি। তাই আশা করছি শূন্যপদ এবার পূরণ হবে।’
