ঘোকসাডাঙ্গা ও পারডুবি: ভোট ঘোষণা না হলেও মাথাভাঙ্গা বিধানসভার ‘বিজেপি গড়’ দখলে মরিয়া তৃণমূল এবং তা রক্ষায় অনড় গেরুয়া শিবিরের লড়াইয়ে মঙ্গলবার রণক্ষেত্রের চেহারা নিল রুইডাঙ্গা। মাথাভাঙ্গা ২ ব্লকের রুইডাঙ্গা গ্রাম পঞ্চায়েতের পাঁচ নম্বর এলাকায় বিজেপির ‘পরিবর্তন সংকল্প সভা’ ঘিরে দিনভর চলল উত্তেজনা, পথ অবরোধ এবং হামলার অভিযোগ। সভার প্রধান বক্তা তথা বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতা রাহুল সিনহা (Rahul Sinha) অভিযোগ করেন, পুলিশ ও তৃণমূলের যৌথ বাধা টপকেও বিজেপির এই সভা সফল হয়েছে।
এদিন সভা থেকে রাহুল সিনহা একাধিক বিষয়ে রাজ্য সরকারকে আক্রমণ করেন। তাঁর দাবি, সভার অনুমতি দেওয়ায় সদ্য দায়িত্ব নেওয়া পুলিশ অফিসারকে (ওসি) ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বদলি করে দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশে ইউনূস সরকারের সঙ্গে এ রাজ্যের তুলনা টেনে মুখ্যমন্ত্রীকে তীব্র আক্রমণ করেন তিনি। আরজি কর কাণ্ড থেকে শুরু করে নিয়োগ দুর্নীতি—একাধিক ইস্যুতে তৃণমূলকে বিঁধে তিনি দাবি করেন, আগামী রামনবমীতে রাজ্যে পালাবদল নিশ্চিত। দুর্নীতিগ্রস্ত নেতাদের সম্পত্তি ‘সুদে-আসলে’ বুঝে নেওয়ার হুঁশিয়ারিও দেন তিনি।
মঙ্গলবার সকাল থেকেই রুইডাঙ্গা আসার প্রতিটি মোড়—হিন্দুস্তান মোড়, কোচবিহার চা বাগান এবং শীতলাবাড়ি মোড়ে তৃণমূল কর্মীরা অবস্থান বিক্ষোভ শুরু করে। বিজেপির অভিযোগ, তাঁদের কর্মীদের গাড়ি আটকানো হয়েছে এবং শারীরিক হেনস্থা করা হয়েছে। বিজেপির জেলা সভাপতি অভিজিৎ বর্মণ দাবি করেন, তৃণমূলের ‘সন্ত্রাস’ মোকাবিলা করেই কর্মীরা সভায় পৌঁছেছেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে মাথাভাঙার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তন্ময় মুখোপাধ্যায় বিশাল পুলিশবাহিনী নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছান।
তৃণমূল কংগ্রেসের জেলা সাধারণ সম্পাদক সাবলু বর্মন সমস্ত অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে জানান, বিজেপি মিথ্যা অভিযোগ তুলছে। তিনি বলেন, “এসআইআর-এর নামে সাধারণ মানুষকে হয়রানি করা হচ্ছে। তারই প্রতিবাদে আমাদের কর্মসূচি ছিল। আসলে সাধারণ মানুষই বিজেপির ওপর ক্ষুব্ধ, তাই তাঁরাই স্বতঃস্ফূর্তভাবে প্রতিবাদ জানিয়েছেন।”
