দেড় বছর ধরে মনমরা হয়ে পাথরের উপর মুখ গুঁজে বসে থাকে। খাঁচার সামনে এসে দর্শকরা কত কথা বলেন, কচিকাঁচারা বলতে থাকে – কই আসছে না তো? কখন কাছে আসবে? কিন্তু মাথা তুলতে চায় না সে। খাঁচার ওপার থেকে বেশি কথা ভেসে আসলে দিনের বেলাতেও নাইট শেল্টারে চলে যায়। এমনও কয়েকদিন হয়েছে, দিনের বেলাতেও ওই শেল্টার থেকে বারই হয়নি। তাহলে কি আনফিট? না, একেবারেই নয়। বরং পুরোপুরি ফিট ২০২৩ সালের ১ নভেম্বর পুরুলিয়ার কংসাবতী উত্তর বনবিভাগের রঘুনাথপুর বনাঞ্চলের নিতুড়িয়া বিটের মৌথায় লোকালয়ে আটকে পড়া পূর্ণবয়স্ক পুরুষ হায়না। পায়ে চোট থাকলেও তা সেরে গিয়েছে অনেকদিন।
তাহলে? আসলে নিঃসঙ্গতায় মানসিক স্বাস্থ্য ঠিক নেই চারপেয়েটির। তাই তার স্বভাব-গোত্রীয় দেখে ওই হায়নার সঙ্গী খোঁজা শুরু করেছে ওই চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ। সেই সঙ্গীর খোঁজে সুরুলিয়া মিনি জু কর্তৃপক্ষ এবার ওয়েস্ট বেঙ্গল জু অথরিটি মাধ্যমে দিল্লিতে সেন্ট্রাল জু অথরিটির কাছে প্রস্তাব পাঠিয়েছে। আর সেই প্রস্তাবের নিরিখে ইভোলিউশন টিম ঘুরে গিয়েছে। কিন্তু এই কমন ইন্ডিয়ান স্ট্রাইপ হায়নার সঙ্গী এখনও মেলেনি।
আরও পড়ুন:
আসলে নিঃসঙ্গতায় মানসিক স্বাস্থ্য ঠিক নেই চারপেয়েটির। তাই তার স্বভাব-গোত্রীয় দেখে ওই হায়নার সঙ্গী খোঁজা শুরু করেছে ওই চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ। সেই সঙ্গীর খোঁজে সুরুলিয়া মিনি জু কর্তৃপক্ষ এবার ওয়েস্ট বেঙ্গল জু অথরিটি মাধ্যমে দিল্লিতে সেন্ট্রাল জু অথরিটির কাছে প্রস্তাব পাঠিয়েছে।
আরও পড়ুন:
তবে এই আবাসিকের নামকরণে ওই চিড়িয়াখানার দেখভাল করা কংসাবতী উত্তর বনবিভাগ চিঠি পাঠাবে ওয়েস্টবেঙ্গল জু অথরিটির কাছে। সেই সঙ্গে এই চিড়িয়াখানাকে ঘিরে যে মাস্টারপ্ল্যান তৈরির কাজ চলছে সেখানে যুক্ত হতে চলেছে হায়না কনজারভেশন ব্রিডিং প্রোগ্রাম। পুরুলিয়া বনবিভাগের ডিএফও তথা কংসাবতী উত্তর বনবিভাগের দায়িত্বে থাকা অঞ্জন গুহ বলেন, “ওই হায়নার নিঃসঙ্গতা কাটাতে সুনির্দিষ্ট গাইডলাইন মেনে তার সঙ্গী খোঁজার কাজ শুরু হয়েছে। ওই আবাসিকের যাতে নামকরণ করা যায়, সেই বিষয়ে আমরা ওয়েস্ট বেঙ্গল জু অথরিটিকে চিঠি লিখছি। এই চিড়িয়াখানাকে ঘিরে যে মাস্টার প্ল্যান তৈরির কাজ চলছে সেখানে হায়না কনজারভেশন ব্রিডিং প্রোগ্রাম যুক্ত করা হচ্ছে।”
বর্তমানে ওই পুরুষ হায়নার বয়স প্রায় ৫ বছর। উদ্ধারের পর টানা ১০ মাস সফট রিলিজে রাখার পর ২০২৪ সালের ১ সেপ্টেম্বর সুরুলিয়ার মিনি চিড়িয়াখানার এনক্লোজারে তাকে নিয়ে আসা হয় দর্শকদের বিনোদনের জন্য। কিন্তু বিনোদন দেবে কি, নিজেই যে মনমরা! তবে তার জন্য এই চিড়িয়াখানায় কম ভিড় হয় না। চলতি শীতের মরশুমে এখানে ৭ লক্ষ টাকা আয় হয়েছে। তার পিছনে এই পূর্ণবয়স্ক পুরুষ হায়নার কম অবদান কিন্তু নেই। তাকে শুধু চোখে দেখতেই যে শনি-রবিবার গুলিতে ভিড় উপচে পড়ে। প্রতিদিন দেড় কেজি ‘বিফ’ দিতে হয় তাকে। সেই সময় সে একটু শান্ত থাকলেও অন্য সময় কেউ তার কাছে যাওয়ার চেষ্টা করলেই এনক্লোজার জুড়ে ছুটে বেড়ায়।

তবে এই হায়নাটি ছাড়াও চিড়িয়াখানাতে আরও একটি পুরুষ ও স্ত্রী হায়না রয়েছে। কিন্তু তাদেরকে এনক্লোজারে রাখার অনুমতি দেয়নি সেন্ট্রাল জু অথরিটি। চিড়িয়াখানা সূত্রে খবর, ওই দুটি হায়নার মধ্যে একটি স্ত্রী হায়নাকে পরীক্ষামূলকভাবে কয়েকদিন ধরে ওই মনমরা পুরুষ হায়নার সঙ্গে এনক্লোজারে রাখা হলেও ওই পুরুষের মনে ধরেনি। আসলে বন্য জীবনে নিজের মতো করে ঘুরে বেড়িয়েছিল সে। তাই খাঁচার মধ্যে সঙ্গী না পেয়ে ছুটে বেড়ালেও এনক্লোজারে খেলতে দেখা যায় না। ফলে তার সঙ্গী খোঁজা নিয়ে খানিকটা উদ্বেগেই রয়েছে চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ থেকে কংসাবতী উত্তর বনবিভাগ।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
