Previous Malda | পুরাতন মালদায় মাদকের মরণফাঁদ! পুলিশি অভিযানে যুবকের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে শোরগোল

Previous Malda | পুরাতন মালদায় মাদকের মরণফাঁদ! পুলিশি অভিযানে যুবকের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে শোরগোল

আন্তর্জাতিক INTERNATIONAL
Spread the love


সিদ্ধার্থশংকর সরকার, পুরাতন মালদা: পুরাতন মালদা (Previous Malda) শহর ও সংলগ্ন গ্রামীণ এলাকা বর্তমানে এক ভয়াবহ সামাজিক সংকটের মুখে দাঁড়িয়ে। সর্বত্র নেশার জাল এমনভাবে ছড়িয়ে গিয়েছে যে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা ও যুবসমাজের ভবিষ্যৎ এখন গভীর অন্ধকারে। রেললাইনের পাশে ফাঁকা জমিই হোক বা নদীর পাড়, অথবা হাসপাতালের পাশের আম বাগান যেখানে-সেখানে বসছে নেশার আসর। বিশেষ করে রবিবারের ঘটনার পর বিষয়টি নিয়ে এখন জোর চর্চা চলছে শহরে।

রবিবার দুপুরে শহরের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের রেল ট্রেনিং সেন্টারের পাশে ব্রাউন সুগারের (Brown Sugar Racket) একটি ঠেকে অভিযান চালিয়েছিল পুলিশ। পুলিশ দেখে ভয় পেয়ে পালাতে গিয়েছিলেন সুমন শেখ। সেসময় তাঁর মৃত্যু হয় বলে পুলিশের দাবি। যদিও সুমনের পরিজনদের দাবি, সুমনের মৃত্যুর পিছনে পুলিশের হাত রয়েছে। তা নিয়ে রবিবার সন্ধ্যা থেকে রাত অবধি পথ অবরোধ, টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ দেখিয়েছেন সুমনের বাড়ির ও পাড়ার লোকজন।

এই ঘটনাটি নিয়ে সোমবার শহরে দিনভর চর্চা হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, এই মৃত্যু কেবল একটি দুর্ঘটনা নয়, বরং এলাকায় মাদকের শিকড় কতটা গভীরে গেড়ে বসেছে, তার প্রমাণ। পুরাতন মালদার নারায়ণপুরের বাসিন্দা সুবোধ ঘোষ বলেন, ‘মদ ও নেশার আসর নিয়ে আমরা অতিষ্ঠ। এলাকার ফাঁকা মাঠ ও আম বাগানে নিয়মিত নেশার আসর বসছে। এর ফলে মহিলারা রাতে রাস্তা দিয়ে চলাফেরা করতে ভয় পাচ্ছেন।’

পুরাতন মালদা শহরের চালিশাপাড়া সংলগ্ন আম বাগান, রেললাইনের ধার, নবাবগঞ্জে মহানন্দা নদীর পাড় বা মৌলপুর হাসপাতাল সংলগ্ন আম বাগানের মতো ফাঁকা ও পরিত্যক্ত এলাকাগুলো এখন কার্যত মাদকসেবনকারী ও মাদকের কারবারিদের ‘অভয়ারণ্য’। বাসিন্দাদের অভিযোগ, মঙ্গলবাড়ির আনাচে-কানাচে ও মহানন্দা নদীর পাড়ে দিনের বেলাতেই মদ ও মাদক আসক্তদের ভিড় জমছে। এর ফলে সাধারণ মানুষের চলাফেরা করা দায় হয়ে দাঁড়িয়েছে। শুধু শহর এলাকাতেই নয়, পুরাতন মালদা ব্লকের বিস্তীর্ণ গ্রামীণ এলাকাতেও এই একই সমস্যা। নারায়ণপুর, মুচিয়ার আদমপুর এবং ভাবুকের আট মাইল হাটের মতো জনবহুল এলাকায় রমরমিয়ে চলছে অবৈধ মদের কারবার।

শহরের বাসিন্দা নিলয় ঘোষ ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেন, ‘পুলিশ মাঝেমধ্যে অভিযান করলেও এই চক্র পুরোপুরি নির্মূল হচ্ছে না। মাদক কারবারিরা এতটাই বেপরোয়া যে পুলিশের চোখের আড়ালে দ্রুত আস্তানা বদল করে তারা ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে।’ নারায়ণপুরের বাসিন্দা গৌতম রাজবংশী জানিয়েছেন, পরিস্থিতির কোনও উন্নতি না হওয়ায় তাঁরা অতিষ্ঠ। তাঁর দাবি, ‘আমরা স্থির করেছি অতি দ্রুত এর প্রতিবাদে থানায় ডেপুটেশন দেব। পুলিশ প্রশাসন যদি আগে থেকে কঠোর ব্যবস্থা নিয়ে এই কারবার বন্ধ না করে, তবে আগামীদিনে মালদার যুবসমাজ পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে যাবে।’

দুশ্চিন্তায় জনপ্রতিনিধিরাও। পুরাতন মালদা পুরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার শত্রুঘ্ন সিনহা বর্মা এপ্রসঙ্গে বলেন, ‘আমরা নেশামুক্ত সমাজ চাই। শহরের কোথাও যাতে অবৈধ নেশার আসর না বসে, সেদিকে আমাদের নজর রয়েছে।’

যদিও মালদা থানার পুলিশ (Malda Police) প্রশাসনের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে যে, মাদক ও অসামাজিক কার্যকলাপ রুখতে তাদের ধারাবাহিক অভিযান এবং বিশেষ নজরদারি জারি রয়েছে।

অন্যদিকে, এদিনও মৃত সুমনের কাকা মাজিফুল ইসলাম দাবি করেন, ‘আমার ভাইপোকে নির্যাতন করে মারা হয়েছে, এ বিষয়ে আমরা নিশ্চিত। সোমবার ময়নাতদন্ত হয়েছে। ভাইপোর অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার কাজ শেষ করে আমরা থানায় অভিযোগ জানাতে যাব।’ এদিন মৃতের পরিবারকে সমবেদনা জানাতে তাঁদের বাড়িতে যান দক্ষিণ মালদা লোকসভা কেন্দ্রের সাংসদ ইশা খান চৌধুরী, কংগ্রেস নেত্রী মৌসম বেনজির নুর এবং এলাকার প্রাক্তন বিধায়ক ভূপেন্দ্রনাথ হালদার সহ অন্যরা। তাঁরাও এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *