উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: আন্তর্জাতিক নারী দিবসের পুণ্যলগ্নে দাঁড়িয়ে একদিকে যখন দেশ নারীশক্তির সাফল্য উদযাপন করছে, ঠিক তখনই পশ্চিমবঙ্গের মাটি থেকে রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসকে আবারও কড়া ভাষায় বিঁধলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর (Droupadi Murmu) বঙ্গসফরে ‘প্রটোকল’ লঙ্ঘন (President Droupadi Murmu Protocol Violation) এবং তাঁকে অপমানের অভিযোগে সরব হয়ে প্রধানমন্ত্রী আজ সাফ জানিয়ে দিলেন, “বাংলার মানুষ খুব শীঘ্রই এই অহঙ্কারী সরকারকে পরিবর্তন করবে।”
রাষ্ট্রপতির সফর ঘিরে বেনজির সংঘাত শুরু হয়েছে কেন্দ্র ও রাজ্যের মধ্যে। অভিযোগ উঠেছে, রাষ্ট্রপতি যখন রাজ্যে নামেন, তখন প্রটোকল ভেঙে অনুপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, মুখ্যসচিব এবং পুলিশ মহানির্দেশক (DGP)। শুধু তাই নয়, রাষ্ট্রপতির জন্য বরাদ্দ শৌচাগারে জল না থাকা থেকে শুরু করে কনভয়ের রাস্তায় আবর্জনার স্তূপ— একাধিক অভিযোগ তুলে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র সচিব গোবিন্দ মোহন আজ বিকেল ৫টার মধ্যে রিপোর্ট তলব করেছেন রাজ্যের মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তীর কাছে।
সাঁওতাল সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি তথা দেশের প্রথম নাগরিকের প্রতি এই আচরণকে ‘ঐতিহ্যের অবমাননা’ হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন মোদী। তিনি বলেন, “বাংলার সরকার কেবল একজন রাষ্ট্রপতিকে নয়, অপমান করেছে দেশের আদিবাসী সমাজ ও সাঁওতাল ঐতিহ্যকে। আমাদের নিজেদের ঐতিহ্য নিয়ে গর্বিত হওয়া উচিত, কিন্তু তৃণমূল সরকার সেখানেও বিভেদের রাজনীতি করছে।” যদিও তৃণমূলের দাবি কোনও ভাবেই রাষ্ট্রপতিকে অপমান করা হয়নি।
কেন্দ্রীয় সরকারের দাবি, রাষ্ট্রপতির নিরাপত্তার জন্য নির্দিষ্ট ‘ব্লু বুক’-এর নিয়মাবলী চরমভাবে অবহেলিত হয়েছে এই সফরে। এই প্রশাসনিক গাফিলতিকে হাতিয়ার করে বিজেপি এখন রাজপথে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছে। অন্যদিকে, নবান্নের পক্ষ থেকে এই রিপোর্ট তলবের পর কী জবাব দেওয়া হয়, এখন সেদিকেই তাকিয়ে রাজনৈতিক মহল।
