উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক : পশ্চিম এশিয়ায় ইরান ও ইজরায়েল-আমেরিকা সংঘাতের জেরে তৈরি হওয়া নজিরবিহীন অস্থিরতার মধ্যে সক্রিয় ভূমিকা (West Asia disaster) নিল ভারত। সোমবার বাহরাইনের রাজা (Bahrain King) হামাদ বিন ঈসা আল খলিফা এবং সৌদি আরবের ক্রাউন প্রিন্স (Saudi Crown Prince) মহম্মদ বিন সলমনের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi West Asia Battle)। দুই দেশের ওপর ইরানের সাম্প্রতিক হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে ভারত তাঁদের সার্বভৌমত্বের পাশে থাকার বার্তা দিয়েছে।
কূটনীতিতে জোর, নাগরিকদের নিরাপত্তা প্রথম
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি আমেরিকা ও ইজরায়েলের হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লাহ আলি খামেনেইর মৃত্যুর পর তেহরানের পাল্টা মিসাইল হানায় উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে উপসাগরীয় অঞ্চল। এই সংকটের মুহূর্তে প্রধানমন্ত্রী মোদি (Narendra Modi) স্পষ্ট করেছেন, ভারত যে কোনও ধরনের সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘনের বিরোধী। এক্স (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডেলে তিনি জানান, “সৌদি আরবের আঞ্চলিক অখণ্ডতা ও সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘনের ঘটনায় ভারত সমব্যথী। আমরা একমত হয়েছি যে দ্রুত আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা অত্যন্ত জরুরি।” একই সঙ্গে ওই দেশগুলিতে কর্মরত লক্ষ লক্ষ ভারতীয়দের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রাষ্ট্রপ্রধানদের অনুরোধ জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। বিশেষ করে বাহরাইন ও সৌদিতে থাকা ভারতীয় সম্প্রদায়ের প্রতি স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগিতার জন্য তিনি ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।
মোদিরর ত্রিমুখী কৌশল: ইজরায়েল থেকে আরব দুনিয়া
রবিবার সংযুক্ত আরব আমিরশাহীর প্রেসিডেন্টের সঙ্গে কথা বলার পর, এদিন ইজরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গেও কথা বলেন মোদী। এরপরই তিনি নিরাপত্তা সংক্রান্ত ক্যাবিনেট কমিটির (CCS) বৈঠক ডাকেন। কূটনৈতিক মহলের মতে, ভারত একদিকে যেমন ইজরায়েলের সাথে কৌশলগত সম্পর্ক বজায় রাখছে, তেমনই আরব বিশ্বের স্থিতিশীলতা রক্ষায় অগ্রণী ভূমিকা নিচ্ছে। মোদীর কথায়, “যখন দুই গণতন্ত্র একযোগে দাঁড়ায়, তখন বিশ্বমঞ্চে সেই আওয়াজ আরও শক্তিশালী হয়।”
যুদ্ধের আবহে ভারতের অবস্থান
তেহরানের ড্রোন ও মিসাইল হামলায় মধ্যপ্রাচ্যে যখন বৃহত্তর যুদ্ধের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, তখন ভারত সরাসরি সংঘাতের বদলে সংলাপ ও আলোচনার (Dialogue and Diplomacy) পথেই সংকট সমাধানের আহ্বান জানাচ্ছে। লেবাননের হিজবুল্লাহ গোষ্ঠীর সক্রিয়তা এবং ইজরায়েলের পাল্টা হানায় পরিস্থিতি যে কোনো সময় হাতের বাইরে চলে যেতে পারে, তাই শান্তি ফেরাতে আন্তর্জাতিক স্তরে যোগাযোগ বজায় রাখছে দিল্লি।
