উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: উত্তাল বিশ্ব রাজনীতি। একদিকে ইউক্রেন-রাশিয়া সংঘাত (Ukraine-Russia battle), অন্যদিকে মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও ইজরায়েলের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ— এই অস্থির আবহে ফের শান্তির বার্তাবাহক হয়ে উঠলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi)। বৃহস্পতিবার দিল্লিতে ফিনল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট আলেকজান্ডার স্টাব-এর সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের পর এক যৌথ বিবৃতিতে মোদি সাফ জানিয়ে দিলেন, কেবল সামরিক সংঘাতের মাধ্যমে কোনো স্থায়ী সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়।
শান্তির পক্ষে ভারতের অবস্থান:
প্রধানমন্ত্রী মোদি এদিন স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “ইউক্রেন হোক বা পশ্চিম এশিয়া (West Asia Battle), আমরা সর্বদা সংঘাতের অবসান চাই। যে কোনো শান্তিকামী পদক্ষেপে ভারতের পূর্ণ সমর্থন থাকবে।” ফিনল্যান্ডের প্রেসিডেন্টের উপস্থিতিতে তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, দ্রুত যুদ্ধের মেঘ কেটে যাবে এবং বিশ্ব আবার স্থিতিশীলতার পথে ফিরবে। প্রধানমন্ত্রীর এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এল যখন আমেরিকা ও ইজরায়েলের হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেইয়ের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে পশ্চিম এশিয়া কার্যত বারুদের স্তূপের ওপর দাঁড়িয়ে আছে।
ভারত ও ইউরোপের সোনালী অধ্যায়:
গোটা বিশ্বের অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে ভারত ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের সম্পর্ককে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর মতে, ভারত ও ইউরোপ বিশ্বের দুটি বৃহৎ গণতান্ত্রিক শক্তি। বর্তমানে এই সম্পর্ক এক ‘সোনালী অধ্যায়ে’ প্রবেশ করেছে। পারস্পরিক বোঝাপড়া ও উন্নয়ন কেবল দুই দেশের জন্য নয়, বরং আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতার জন্যও অত্যন্ত জরুরি বলে তিনি উল্লেখ করেন।
উল্লেখ্য, গত পাঁচদিন ধরে পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি চরম উত্তপ্ত। খামেনেইয়ের মৃত্যু নিয়ে ভারত সরাসরি কোনো বিবৃতি না দিলেও, প্রধানমন্ত্রী মোদি আরব দুনিয়ার গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের সঙ্গে দফায় দফায় কথা বলছেন। সংযুক্ত আরব আমিরশাহির প্রেসিডেন্ট শেখ মহম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান, সৌদি যুবরাজ মহম্মদ বিন সলমন এবং বাহারিনের রাজার সঙ্গে ফোনে কথা বলে আঞ্চলিক শান্তি বজায় রাখার ওপর জোর দিয়েছেন তিনি। নয়াদিল্লির এই সক্রিয়তা প্রমাণ করছে যে, যুদ্ধের মোকাবিলায় ভারত কূটনীতি ও সংলাপকেই প্রধান হাতিয়ার করতে চাইছে।
