পারমিতা রায়, শিলিগুড়ি: একটা সময় ছিল যখন শীতকাল এলে হাঁড়ি, কড়াই নিয়ে কোনও মাঠে বা নদীর ধারে পিকনিক (Picnic) করতে ছুটতেন সকলে। বন্ধুদের সঙ্গে হোক বা পরিবারের সঙ্গে পিকনিকের সেই ট্রেন্ডের বদল ঘটছে বর্তমান সময়ে। অতীতের সেই দিন ভুলে এখন পাহাড়ের কোলে আড্ডা দিতে দিতে একটা দিন কাটাতে চাইছেন অনেকে। হোমস্টের কিচেনে রান্না আর বারান্দায় মিউজিক, দূরে নদী সব মিলিয়ে পাহাড় কিংবা ডুয়ার্সের পরিবেশ এখন পিকনিকপ্রেমীদের প্রথম পছন্দ। আর এতেই বাড়তি আয় হচ্ছে হোমস্টে, রিসর্টগুলির।
দুধিয়ার কাছে একটি হোমস্টে রয়েছে ভূমিকা ছেত্রীর। এবছর পিকনিকের মরশুম আসার আগেই পিকনিকপ্রেমীরা বুকিংও শুরু করে দিয়েছেন। এদিকে িপকনিকের জন্য বেশ কিছু স্পেশাল মেনুর লিস্ট তৈরি করে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্টও করে দিয়েছেন ভূমিকা। পাশাপাশি বেশকিছু গ্রাহককে তা পাঠিয়ে দিয়েছেন। ভূমিকা বলছিলেন, ‘কয়েকবছর ধরে পিকনিকের সময় অনেকেই আসছেন হোমস্টেতে। যেহেতু আমাদের জায়গা আছে তাই এখানে পিকনিকের সুবিধা দিতে পারছি। বুকিংও শুরু হয়ে গিয়েছে।’
মূলত এই হোমস্টে বা রিসর্টগুলিতে মাথাপিছু টাকা নেওয়া হয়, আবার কোথাও গ্রুপে কতজন রয়েছেন তার ওপর নির্ভর করে প্যাকেজ হিসাবে টাকা নেওয়া হয়। বুংকুলুংয়ের একটি রিসর্টেও একইভাবে টাকা নেওয়া হয়। ওই রিসর্টে ইতিমধ্যেই বুকিং শুরু হয়ে গিয়েছে। এদিকে, রিসর্টের তরফেও পিকনিকের সময়ে বিশেষ মেনুর ব্যবস্থা করা হয়েছে। রিসর্টের অন্যতম মালিক প্রেমা থাপা বলেন, ‘এত বুকিং আসছে পিকনিকের জন্য যে আমরা এবার পিকনিক স্পেশাল অফার, মেনু রাখছি। নভেম্বরের শেষ থেকেই শুরু হয়ে যায় পিকনিকের ধুম। এবার অগ্রিম বুকিং ভালো আসছে।’
এবছর পাহাড়ের কোলে পিকনিক সারবেন বলে ঠিক করেছেন প্রকাশ রায়। তাঁর কথায়, ‘রিসর্টে পিকনিক করলে মাথায় বাড়তি চাপ, রান্নাবান্নার ঝামেলা থাকে না। সবাই মিলে একসঙ্গে অনেক আনন্দ করতে পারি।’ গতবছরও কার্সিয়াংয়ের কাছে একটি হোমস্টেতে পিকনিক করেছিলেন অভিষেক সরকার। এবারও পিকনিকের মরশুমে লাটাগুড়ির এক রিসর্টে সহকর্মীদের সঙ্গে যাবেন বলে জানাচ্ছিলেন। তিনি বললেন, ‘সব বন্ধু মিলে যাব। আমরা কেউই রান্নায় পটু নই। তাই রিসর্টে গেলে অনেক সুবিধা হয়। সবাই একসঙ্গে নাচ, গান, আনন্দ করে দিনটা কাটানো যায়।’
পিকনিকের এমন নতুন ট্রেন্ডে পর্যটনের সঙ্গে যুক্ত ব্যবসায়ীদের বাড়তি আয় হচ্ছে বলে জানালেন হিমালয়ান হসপিটালিটি অ্যান্ড ট্যুরিজম ডেভেলপমেন্ট নেটওয়ার্কের সাধারণ সম্পাদক সম্রাট সান্যাল। তিনি বলেন, ‘এখন অনেকে রিসর্ট, হোমস্টেতে গিয়ে পিকনিক করছেন। নতুন এই ট্রেন্ডে আয়ের পথ প্রসার হচ্ছে ব্যবসায়ীদের।’
