ফাঁসিদেওয়া: “এখানকার সব গুন্ডাদের বলে দেবেন, রাজু বিস্ট সবচেয়ে বড় গুন্ডা!”— মঙ্গলবার ফাঁসিদেওয়া (Phansidewa) থানার ওসি সুদীপ বিশ্বাসকে ফোনে ঠিক এই ভাষাতেই ধমক দিলেন দার্জিলিংয়ের বিজেপি সাংসদ রাজু বিস্ট (Raju Bista threatens)। জমি বিবাদকে কেন্দ্র করে এক অন্তঃসত্ত্বা মহিলার ওপর হামলা ও তাঁর গর্ভস্থ সন্তানের মৃত্যুর ঘটনায় দুই মাস কেটে গেলেও পুলিশ কেন অভিযুক্তদের ধরতে পারেনি, সেই প্রশ্ন তুলে মেজাজ হারান সাংসদ। তাঁর এই মন্তব্য ঘিরে উত্তরবঙ্গের রাজনৈতিক মহলে বিতর্ক চরমে।
গত ২৩ ডিসেম্বর ফাঁসিদেওয়ার ঝমকলালজ্যোত সংলগ্ন মুণ্ডা বস্তিতে জমি বিবাদকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ হয়। অভিযোগ ওঠে, এক সিভিক ভলান্টিয়ার অপরপক্ষের এক অন্তঃসত্ত্বা মহিলাকে আঘাত করেন, যার ফলে পরে তাঁর গর্ভস্থ সন্তান মারা যায়। ঘটনার এতদিন পরও চারজন অভিযুক্ত অধরা থাকায় এদিন সশরীরে ওই পরিবারের কাছে পৌঁছান রাজু বিস্ট।
নিগৃহীতের বাড়িতে বসেই ফাঁসিদেওয়া থানার ওসি সুদীপ বিশ্বাসকে ফোন করেন সাংসদ। ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে তাঁকে বলতে শোনা যায়, “আপনি কি তৃণমূলের দালাল? আপনাকে এখানে কেন চাকরিতে রাখা হয়েছে? দুই মাস হয়ে গেল, থানা থেকে মাত্র দুই কিমি দূরে ঘুরে বেড়াচ্ছে অপরাধীরা, আপনারা কী করছেন?” এরপরই তিনি আরও কঠোর সুরে বলেন, “সবাইকে বলে দেবেন, আমি সবচেয়ে বড় গুন্ডা। আমার থেকে বড় গুন্ডা এখানে কেউ নেই।” অপরাধীদের অবিলম্বে শ্রীঘরে ভরার চরম সময়সীমাও বেঁধে দেন তিনি।
সাংসদের এই ভাষার কড়া সমালোচনা করেছেন তৃণমূল কংগ্রেসের দার্জিলিং জেলা (সমতল) চেয়ারম্যান সঞ্জয় টিব্রেওয়াল। তিনি বলেন, “বিজেপি যে আদতে গুন্ডাগর্দিতে বিশ্বাসী, রাজু বিস্টের কথাতেই তা প্রমাণিত। একজন সাংসদ হয়ে প্রশাসনকে এভাবে চমকানো যায় না।” অন্যদিকে, নকশালবাড়ির এসডিপিও সৌম্যজিৎ রায় জানিয়েছেন, পুলিশ একটি তদন্তকারী সংস্থা, রাজনীতির চাপে তারা কাজ করে না। তদন্তে যা সঠিক হবে, সেই অনুযায়ী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
সাংসদ অবশ্য নিজের অবস্থানে অনড়। তাঁর সাফ কথা, “হয় গুন্ডাগিরি ছাড়ো, নয়তো জেলা ছাড়ো। সাধারণ মানুষের ওপর অত্যাচার করলে রাজু বিস্ট কী করতে পারে, তা তারা জানে।”
