Patiram Inspirational Story | অকৃতজ্ঞ সমাজ? সুখ বিসর্জন দিয়ে দুঃস্থ ছাত্রদের বিলিয়েছেন বই, আজ নিজের চিকিৎসার খরচ নেই ‘দরদি’ স্বপনের

Patiram Inspirational Story | অকৃতজ্ঞ সমাজ? সুখ বিসর্জন দিয়ে দুঃস্থ ছাত্রদের বিলিয়েছেন বই, আজ নিজের চিকিৎসার খরচ নেই ‘দরদি’ স্বপনের

ভিডিও/VIDEO
Spread the love


পতিরাম: পতিরাম পঞ্চায়েতের পাগলিগঞ্জ এলাকার পোল্লাপাড়ার বাসিন্দা স্বপন অধিকারী (Swapan Adhikary)। গত ৪০ বছর ধরে রিকশা চালিয়েছেন তিনি। তবে শুধু নিজের পেট নয়, তাঁর আয়ের একটা বড় অংশ দিয়ে তিনি কিনতেন বই-খাতা। সেই সব সরঞ্জাম তুলে দিতেন এলাকার দরিদ্র ছাত্রছাত্রীদের হাতে। দীর্ঘ চার দশক ধরে নিঃস্বার্থভাবে এই কাজ করে এলাকায় ‘দরদি রিকশাওয়ালা’ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছিলেন তিনি (Patiram Inspirational Story)। কিন্তু আজ সময়ের পরিহাসে সেই মানুষটিই চূড়ান্ত অসুস্থতা আর চরম অবহেলার শিকার।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, একসময় স্বপনবাবুর রিকশায় চড়তেন বহু পড়ুয়া। নিজের সঞ্চয় থেকে বই-খাতা কিনে দিতেন তাদের। তাঁর এই মানবিক উদ্যোগের জন্য বিভিন্ন মহল থেকে সম্মানও পেয়েছিলেন তিনি। এমনকি সংবাদপত্রের শিরোনামেও তাঁর নাম উঠে এসেছিল। কিন্তু আজ সেই চেনা মানুষটিই এখন ঘরের কোণে শয্যাশায়ী।

গত চার মাস ধরে স্বপন অধিকারীর একটি পায়ে মারাত্মক সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়েছে। বড় ডাক্তার দেখানোর মতো আর্থিক সামর্থ্য নেই পরিবারের। তাঁর ছেলে টোটো চালিয়ে কোনোক্রমে সংসার টানেন। সংক্রমণের মাত্রা এতটাই বেড়েছে যে, চিকিৎসকরা জানিয়েছেন তাঁর পায়ের একটি আঙুল অবিলম্বে কেটে বাদ দিতে হবে। এই কথা বলতে গিয়েই কান্নায় ভেঙে পড়লেন অশীতিপর বৃদ্ধ। চোখের জল মুছতে মুছতে তিনি বলেন, “রিকশা চালিয়ে কত স্কুলের ছাত্রছাত্রীকে বই দিতাম। আজ ডাক্তার বলছে আঙুল কেটে ফেলতে হবে।”

শারীরিক অবস্থা এখন খুবই শোচনীয়। শ্রবণশক্তি কমেছে, অনেক স্মৃতিই এখন ফিকে। অন্য পা-টিও ফুলে রয়েছে কোনো এক অজানা অসুখে। সারাটা দিন বাড়ির দরজার সামনে মাটিতে ভর দিয়ে বসে থাকেন তিনি। একসময় যাঁর হাত ধরে বহু ছাত্রছাত্রীর পড়াশোনার পথ সহজ হয়েছিল, আজ তাঁর খোঁজ নেওয়ার মতো কেউ নেই বলেই আক্ষেপ পরিবারের।

স্থানীয়দের মতে, সমাজ ও প্রশাসনের উচিত এই মানবিক মানুষটির পাশে দাঁড়ানো। জীবনের শেষ লগ্নে এসে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও সামান্য সহায়তা পেলে হয়তো একটু সুস্থভাবে দিন কাটাতে পারবেন পতিরামের এই ‘দরদি রিকশাওয়ালা’।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *