কোচবিহার: বিধানসভা নির্বাচনের দামামা বাজতেই কোচবিহারে চড়ছে রাজনৈতিক পারদ। বুধবার রাতে কোচবিহার শহর সংলগ্ন মহিষবাথান এলাকায় বিজেপির ‘পরিবর্তন সংকল্প যাত্রা’র (Parivartan Sankalp Yatra) একটি ট্যাবলো বা ‘রথ’ ভাঙচুরের অভিযোগ উঠল তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাতভর উত্তেজনা ছড়ায় এলাকায়। হামলায় গাড়ির চালকসহ অন্তত তিনজন বিজেপি কর্মী আহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে গেরুয়া শিবির।
বিজেপির অভিযোগ, বুধবার রাতে তাদের ট্যাবলোটি যখন মহিষবাথান এলাকায় ছিল, তখন তৃণমূল ছাত্র পরিষদের নেতা সায়নদীপ গোস্বামী ও তাঁর অনুগামীরা আচমকা হামলা চালায়। ট্যাবলোর কাঁচ ভাঙার পাশাপাশি চালক ও সেখানে উপস্থিত কর্মীদের মারধর করা হয়। এই ঘটনার প্রতিবাদে রাতেই পুণ্ডিবাড়িতে ৩১ নম্বর জাতীয় সড়ক অবরোধে বসেন বিজেপি বিধায়ক সুকুমার রায়। প্রায় আধ ঘণ্টা অবরোধ চলায় স্তব্ধ হয়ে যায় যান চলাচল। পরে পুলিশের আশ্বাসে অবরোধ ওঠে।
বিধায়ক সুকুমার রায় হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “তৃণমূল চুপিসাড়ে কাপুরুষের মতো হামলা চালিয়েছে। এভাবে বিজেপিকে রোখা যাবে না।” অন্যদিকে, তৃণমূল নেতা সায়নদীপ গোস্বামী যাবতীয় অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “কোচবিহারের মানুষ মদনমোহনের রথ চেনে, নেতাদের রথযাত্রা মানুষ পছন্দ করছে না। বিজেপি স্রেফ বাজার গরম করতেই এসব অভিযোগ তুলছে।”
গত ১ মার্চ বিজেপির সর্বভারতীয় নেতা নীতিন নবীন এই যাত্রার সূচনা করেছিলেন। রথের আদলে তৈরি এই ট্যাবলোটি বিভিন্ন বিধানসভা ঘুরে ব্রিগেডে প্রধানমন্ত্রীর সভায় পৌঁছানোর কথা। হামলার পর বর্তমানে ট্যাবলোটি বিজেপি জেলা কার্যালয়ের সামনে রাখা হয়েছে। আহত সন্তোষ দেবনাথ, রাজা দাস ও রাজু পালদের এমজেএন মেডিকেল কলেজে চিকিৎসা করানো হয়। শত বাধা সত্ত্বেও বৃহস্পতিবার বেলা ১০টায় রাসমেলা মাঠ থেকে পুনরায় এই যাত্রা শুরু হবে বলে জানিয়েছে জেলা বিজেপি নেতৃত্ব।
