উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: পাকিস্তানে ভয়াবহ গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে (Pakistan Cylinder Blast) তছনছ হয়ে গেল একটি বহুতল আবাসন। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় নারী ও শিশু সহ অন্তত ১৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। ধ্বংসস্তূপের নীচে চাপা পড়ে গুরুতর জখম হয়েছেন কমপক্ষে ১৪ জন। বৃহস্পতিবার ভোরে করাচির (Karachi) একটি জনবহুল আবাসিক এলাকায় এই দুর্ঘটনাটি ঘটে।
স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, বিস্ফোরণের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে বহুতলটির একটি বড় অংশ তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ে। সিন্ধু প্রদেশের পুলিশ প্রধান রিজওয়ান প্যাটেল জানিয়েছেন, ঘটনার পরপরই উদ্ধারকাজে নামে পুলিশ ও বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী। প্রাথমিকভাবে মৃতের সংখ্যা ১৩ থাকলেও ধ্বংসস্তূপ থেকে আরও তিনটি দেহ উদ্ধারের পর তা বেড়ে ১৬-তে দাঁড়িয়েছে। আহতদের উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে, যাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। ধ্বংসস্তূপের নীচে আরও কেউ আটকে রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে এখনও তল্লাশি অভিযান চালানো হচ্ছে। ক্রেন ও আধুনিক যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে সরানো হচ্ছে ভেঙে পড়া কংক্রিটের স্ল্যাব।
পাকিস্তানে রান্নার কাজে সাধারণত প্রাকৃতিক গ্যাসের সংযোগ ব্যবহার করা হয়। তবে করাচি সহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে প্রাকৃতিক গ্যাসের চাপ কম থাকায় বিকল্প হিসেবে এলপিজি (LPG) সিলিন্ডারের ব্যবহার বাড়ছে। প্রাথমিক অনুমান, ওই বহুতলে রাখা কোনও গ্যাস সিলিন্ডার থেকেই এই ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটেছে। তবে যান্ত্রিক ত্রুটি নাকি অসাবধানতা, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলি জারদারি এই ঘটনায় গভীর শোকপ্রকাশ করেছেন। তিনি সিন্ধু প্রাদেশিক সরকারকে দ্রুত উদ্ধারকাজ শেষ করার এবং আহতদের উন্নত চিকিৎসার নির্দেশ দিয়েছেন। পাশাপাশি, ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে বিল্ডিং কোড কঠোরভাবে মেনে চলা এবং গ্যাস সিলিন্ডারের নিরাপত্তা যাচাইয়ের ওপর জোর দিয়েছেন তিনি।
উল্লেখ্য, পাকিস্তানে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণ কোনও বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। গত জুলাই মাসেও ইসলামাবাদে এক বিয়ের অনুষ্ঠানে একই ধরনের বিস্ফোরণে বর-কনে সহ ৮ জনের মৃত্যু হয়েছিল।
