উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্কঃ আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের মধ্যকার দীর্ঘদিনের উত্তেজনা এক ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। সূত্রের খবর, বিতর্কিত ডুরান্ড লাইন সীমান্তে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের পর শুক্রবার ভোরে আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুল সহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ শহরে বিমান হামলা চালিয়েছে পাকিস্তান। এই সংঘাতে অন্তত ৫৫ জন পাকিস্তানি সেনা নিহত হয়েছে বলে দাবি করেছে আফগান তালিবান কর্তৃপক্ষ। এমনকি আকাশসীমা লঙ্ঘনের অভিযোগে পাকিস্তানের একটি যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করার দাবিও উঠেছে।
উত্তেজনার সূত্রপাত ও ডুরান্ড লাইনের সংঘর্ষ
বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) রাতে আফগান বাহিনী ডুরান্ড লাইন বরাবর পাকিস্তানের ১৯টি সামরিক চৌকি এবং ২টি ঘাঁটি দখল করে নেয় বলে দাবি করে আফগান প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। তালিবান মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ এক বিবৃতিতে জানান, “পাক বাহিনীর দীর্ঘদিনের উস্কানি এবং আফগান নাগরিকদের ওপর অত্যাচারের প্রতিবাদে এই পাল্টা অভিযান চালানো হয়েছে।”
আফগান কর্তৃপক্ষের দাবি অনুযায়ী, চার ঘণ্টাব্যাপী চলা এই অভিযানে ৫৫ জন পাকিস্তানি সেনা নিহত হয়েছে। এছাড়া বেশ কিছু পাকিস্তানি সেনাকে জীবিত আটক করার দাবিও করা হয়েছে।
পাকিস্তানের পাল্টা ‘অপারেশন গাজাব লিল হক’
পাকিস্তান এই হতাহতের সংখ্যাকে অতিরঞ্জিত বলে প্রত্যাখ্যান করেছে। ইসলামাবাদ জানিয়েছে, আফগান বাহিনীর অতর্কিত হামলার জবাবে তারা ‘অপারেশন গাজাব লিল হক’ (Operation Ghazab Lil Haq) শুরু করেছে। পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী খাজা আসিফ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম X-এ (পূর্বের টুইটার) সরাসরি ‘খোলা যুদ্ধ’ ঘোষণা করে লিখেছেন, “আমাদের ধৈর্যের সীমা পেরিয়ে গেছে। এখন থেকে সরাসরি যুদ্ধ শুরু হল।”
পাকিস্তানের এই অভিযানের অংশ হিসেবে শুক্রবার ভোরে কাবুল, কান্দাহার এবং পাকতিয়া প্রদেশে বিমান হামলা চালানো হয়। কাবুলের বাসিন্দারা শক্তিশালী বিস্ফোরণ এবং আকাশে যুদ্ধবিমানের শব্দ শোনার কথা জানিয়েছেন।
যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করার দাবি
স্থানীয় সংবাদমাধ্যম এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কিছু অসমর্থিত ভিডিওতে দেখা গেছে, আফগান বাহিনী পাকিস্তানের একটি এফ-১৬ (F-16) যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করেছে। দাবি করা হয়েছে, বিমানটি আফগান আকাশসীমা লঙ্ঘন করে হামলার চেষ্টা করছিল। তবে পাকিস্তান সেনাবাহিনী এখনও এই বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেয়নি।
জাবিহুল্লাহ মুজাহিদের প্রতিক্রিয়া
হামলার পর এক বিবৃতিতে তালিবান মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ বলেন:”কাপুরুষ পাকিস্তানি সামরিক বাহিনী কাবুল, কান্দাহার এবং পাকতিয়ার নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় বিমান হামলা চালিয়েছে। সৌভাগ্যবশত, এখনও পর্যন্ত কোনো প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি।”
বর্তমান পরিস্থিতি
বিশ্লেষকরা বলছেন, দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে এই মাত্রার সংঘাত গত কয়েক দশকের মধ্যে বিরল। পাকিস্তান দীর্ঘ দিন ধরেই অভিযোগ করে আসছে যে, আফগানিস্তান তাদের মাটি ব্যবহার করে পাকিস্তানে টিটিপি (TTP) জঙ্গিদের আশ্রয় দিচ্ছে। অন্যদিকে, আফগানিস্তান এই অভিযোগ অস্বীকার করে পাকিস্তানের আকাশসীমা লঙ্ঘন ও সীমান্ত আগ্রাসনের কড়া সমালোচনা করছে।বর্তমানে দুই দেশের সীমান্ত এলাকায় রেড অ্যালার্ট জারি করা হয়েছে এবং তোর্খাম সীমান্ত দিয়ে জনসাধারণের চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে।
