উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: আইএনএক্স মিডিয়া অর্থ পাচার মামলায় প্রাক্তন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী পি চিদাম্বরমের (P Chidambaram) অস্বস্তি আরও বাড়ল। দীর্ঘ আইনি টানাপড়েনের পর, এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি) অবশেষে তাঁর বিরুদ্ধে বিচার শুরু করার আনুষ্ঠানিক অনুমোদন (Prosecution Sanction) দিল্লির বিশেষ আদালতে জমা দিয়েছে। ইডির এই পদক্ষেপের ফলে বহুচর্চিত এই দুর্নীতির মামলার বিচার প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
আইনি বাধ্যবাধকতা ও সুপ্রিম কোর্টের ভূমিকা:
গত ১০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ তারিখে সংশ্লিষ্ট সক্ষম কর্তৃপক্ষ (Competent Authority) পি চিদাম্বরমের বিরুদ্ধে প্রিভেনশন অফ মানি লন্ডারিং অ্যাক্ট (PMLA)-এর অধীনে মামলা চালানোর অনুমতি দেয়। বৃহস্পতিবার ইডি সেই অনুমোদনের চিঠিটি দিল্লির রাউজ অ্যাভিনিউ আদালতের বিশেষ বিচারকের সামনে পেশ করে।
উল্লেখ্য, গত ২০২৪ সালের নভেম্বর মাসে সুপ্রিম কোর্ট ‘ডাইরেক্টরেট অফ এনফোর্সমেন্ট বনাম বিভু প্রসাদ আচার্য’ মামলায় এক যুগান্তকারী রায়ে জানিয়েছিল যে, পিএমএলএ (PMLA) আইনের অধীনে সরকারি আধিকারিক বা জনপ্রতিনিধিদের বিরুদ্ধে বিচার শুরুর জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পূর্বানুমোদন বাধ্যতামূলক। সেই আইনি বাধ্যবাধকতা মেনেই ইডি এই অনুমোদন জোগাড় করে আদালতে জমা দিল (P Chidambaram prosecution sanction), যাতে বিচার প্রক্রিয়া কোনোরকম আইনি বাধার মুখে না পড়ে।
মামলার প্রেক্ষাপট ও অভিযোগের গভীরতা:
মামলাটি মূলত ২০১৭ সালের। সিবিআইয়ের এফআইআরের ভিত্তিতে ইডি তদন্ত শুরু করে। অভিযোগ, পি চিদাম্বরম অর্থমন্ত্রী থাকাকালীন আইএনএক্স মিডিয়া সংস্থাকে অবৈধভাবে বিদেশী বিনিয়োগের অনুমোদন (FIPB clearance) দেওয়া হয়েছিল। তদন্তে জানা গেছে, এই অনুমোদনের বিনিময়ে পি চিদাম্বরমের ছেলে কার্তি চিদাম্বরম এবং তাঁর সাথে যুক্ত বিভিন্ন শেল কোম্পানি বা ভুয়ো সংস্থার মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ ঘুষ নেওয়া হয়েছিল।
ইডি দাবি করেছে, কার্তি চিদাম্বরম তাঁর বাবার পদের অপব্যবহার করে এফআইপিবি (Overseas Funding Promotion Board, FIPB) ক্লিয়ারেন্স পাইয়ে দেওয়ার জন্য অর্থ চেয়েছিলেন এবং গ্রহণ করেছিলেন। এই অর্থ একাধিক জটিল লেনদেনের মাধ্যমে বিভিন্ন সংস্থায় বিনিয়োগ করা হয়েছে, যার মধ্যে ভারতের পাশাপাশি বিদেশেও বিভিন্ন সম্পত্তি কেনা হয়েছে বলে অভিযোগ।
অর্থের পরিমাণ ও বাজেয়াপ্ত সম্পত্তি:
তদন্তকারী সংস্থার মতে, এই অপরাধের মাধ্যমে সংগৃহীত অর্থের (Proceeds of Crime) মোট পরিমাণ প্রায় ৬৫.৮৮ কোটি টাকা। এর আগে ইডি এই মামলার প্রেক্ষিতে দুই দফায় সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করেছে। ২০১৮ সালের অক্টোবরে ৫৩.৯৩ কোটি টাকা এবং ২০২৩ সালের মার্চ মাসে ১১.০৪ কোটি টাকার সম্পত্তি অস্থায়ীভাবে বাজেয়াপ্ত করা হয়েছিল, যা পরে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ (Adjudicating Authority) অনুমোদন দেয়।
এই মামলায় ২০২০ সালের জুন মাসেই প্রথম অভিযোগপত্র দাখিল করেছিল ইডি। আদালত ২০২১ সালে পি চিদাম্বরম, কার্তি চিদাম্বরম এবং আরও আটজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আমলে নেয়। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে একটি সম্পূরক অভিযোগপত্রও জমা দেওয়া হয়েছিল। এবার আনুষ্ঠানিক অনুমোদন জমা পড়ায়, বিচার প্রক্রিয়া দ্রুত গতিতে এগোবে বলে নিশ্চিত ইডি আধিকারিকরা।
