ঢাকা : বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের বিরুদ্ধে এবার সরাসরি হত্যাকাণ্ড ও ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তুলল ২০২৪-এর ‘জুলাই অভ্যুত্থান’-এর অন্যতম নায়ক শরিফ ওসমান হাদির পরিবার। নিহতের ভাই শরিফ ওমর হাদির দাবি, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে নির্ধারিত সাধারণ নির্বাচন বানচাল করার উদ্দেশ্যেই তাঁর ভাইকে পরিকল্পিতভাবে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এই অভিযোগের তির মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন সরকারের একটি অংশের দিকে।
গত ১২ ডিসেম্বর ঢাকার বিজয়নগরে দিবালোকে গুলিবিদ্ধ হন ‘ইনকিলাব মঞ্চ’-এর মুখপাত্র এবং জুলাই বিপ্লবের পরিচিত মুখ শরিফ ওসমান হাদি। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে সিঙ্গাপুরে নিয়ে যাওয়া হলেও গত ১৮ ডিসেম্বর তাঁর মৃত্যু হয়। হাদির মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়তেই উত্তাল হয়ে ওঠে ঢাকা। শাহবাগে হাজার হাজার মানুষের সামনে ওমর হাদি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘আপনারা ওসমান হাদিকে হত্যা করিয়েছেন যাতে নির্বাচন না হতে পারে। নির্বাচনকে ইস্যু বানিয়ে ফয়দা লোটার চেষ্টা করবেন না।’
হাদির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে জনরোষের শিকার হয় দেশের দুই শীর্ষ গণমাধ্যম ‘প্রথম আলো’ ও ‘দ্য ডেইলি স্টার’। অভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে এই প্রথম কোনও সংবাদপত্রের কার্যালয়ে নজিরবিহীন হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটল। ২৭ বছরের ইতিহাসে প্রথমবার প্রকাশিত হতে পারেনি ‘প্রথম আলো’। এই ঘটনাকে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি এবং গণমাধ্যমের জন্য ‘অন্ধকার রাত’ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
হাসিনাবিরোধী আন্দোলনে সামনের সারিতে থাকা ‘ইনকিলাব মঞ্চ’ এখন ইউনূস সরকারের কঠোর সমালোচক। তাঁদের অভিযোগ, কোনও ‘অদৃশ্য শক্তি’ বা বিদেশি প্রভুদের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করতেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে। এদিকে, ২৫ ডিসেম্বর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দেশে ফেরার কথা রয়েছে।
ওসমান হাদির মৃত্যু এবং তাঁর ভাইয়ের বিস্ফোরক অভিযোগ অন্তর্বর্তী সরকারের ভিত নাড়িয়ে দিয়েছে। এখন প্রশ্ন উঠছে, ইউনূস কি পারবেন সঠিক সময়ে নির্বাচন এবং এই হত্যাকাণ্ডের স্বচ্ছ বিচার সুনিশ্চিত করতে? না হলে ক্ষুব্ধ জনতার তোপ সামলানো সরকারের জন্য কঠিন হয়ে পড়বে।
