Operation Trashi-1 | ৩২৬ দিনের রুদ্ধশ্বাস লড়াই! কিশতওয়াড়ে খতম জইশের ‘পোস্টার বয়’ সইফুল্লাহ, সফল ‘অপারেশন ত্রাশি-১’

Operation Trashi-1 | ৩২৬ দিনের রুদ্ধশ্বাস লড়াই! কিশতওয়াড়ে খতম জইশের ‘পোস্টার বয়’ সইফুল্লাহ, সফল ‘অপারেশন ত্রাশি-১’

ব্লগ/BLOG
Spread the love


উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: জম্মু-কাশ্মীরের দুর্গম পাহাড় আর ঘন জঙ্গলে টানা প্রায় এক বছর ধরে চলা লড়াইয়ের অবসান। সফল হল ভারতীয় সেনাবাহিনীর দীর্ঘমেয়াদী এবং অত্যন্ত কঠিন অভিযান ‘অপারেশন ত্রাশি-১’ (Operation Trashi-1)। কিশতওয়াড়ের চাতরু অঞ্চলের পাহাড়ে টানা ৩২৬ দিন মাটি কামড়ে পড়ে থেকে ৭ জন পাকিস্তানি জঙ্গিকে খতম করলেন ভারতীয় সেনার হোয়াইট নাইট কর্পস, এসওজি (SOG) এবং সিআরপিএফ-এর জওয়ানরা।

খতম জইশ-ই-মহম্মদের ‘পোস্টার বয়’
এই অভিযানের সবচেয়ে বড় সাফল্য হল জইশ-ই-মহম্মদ (JeM)-এর কুখ্যাত জঙ্গি এবং উপত্যকায় সন্ত্রাসবাদের নয়া মুখ সইফুল্লাহ-এর মৃত্যু। ২০১৬ সালে খতম হওয়া বুরহান ওয়ানির ধাঁচেই সইফুল্লাহকে ‘পোস্টার বয়’ হিসেবে ব্যবহার করে উপত্যকায় অশান্তি ছড়াতে চেয়েছিল পাকিস্তান। দীর্ঘ সময় ধরে সে এই অঞ্চলে লুকিয়ে ছিল। তার নিকেশ হওয়া মানে কাশ্মীর উপত্যকায় পাকিস্তানের গড়ে তোলা নাশকতার নেটওয়ার্ক তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়া।

হাড়কাঁপানো শীত ও প্রতিকূল পরিবেশে জয়
কিশতওয়াড়ের এই অপারেশন ছিল ধৈর্যের পরীক্ষা। দুর্গম পাহাড়ি এলাকা, কোনো রাস্তা নেই, নেই কোনো ফাঁকা জমি। এর ওপর হিমাঙ্কের নিচে তাপমাত্রা এবং অঝোরে তুষারপাত। প্রতিকূল আবহাওয়া সত্ত্বেও জওয়ানরা এক মুহূর্তের জন্য পাহাড় ছাড়েননি। পাকিস্তানের সামরিক প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত এই জঙ্গিরা বারবার ঘন জঙ্গলে গা ঢাকা দেওয়ার চেষ্টা করলেও ভারতীয় বাহিনীর নজর এড়াতে পারেনি।

প্রযুক্তির দাপট ও গোয়েন্দা সাফল্য
এই লড়াই কেবল সাহসের ছিল না, ছিল আধুনিক প্রযুক্তিরও। অপারেশনে ব্যবহৃত হয়েছে:
• FPV ড্রোন ও UAV: জঙ্গিদের গতিবিধির ওপর নজর রাখতে ড্রোন ব্যবহার করা হয়েছে।
• স্যাটেলাইট ইমেজারি: পাহাড়ি গুহা বা জঙ্গলে লুকানোর জায়গা চিহ্নিত করতে কৃত্রিম উপগ্রহের সাহায্য নেওয়া হয়েছে।
• নিশ্ছিদ্র যোগাযোগ: প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যেও সুরক্ষিত যোগাযোগ ব্যবস্থা জওয়ানদের মধ্যে সমন্বয় বজায় রেখেছিল।

সমন্বয় এবং স্থানীয় মানুষের সহযোগিতা
সেনার হোয়াইট নাইট কর্পস, পুলিশের স্পেশাল অপারেশন গ্রুপ (SOG) এবং সিআরপিএফ-এর মধ্যে চমৎকার সমন্বয় এই জয়ের পথ প্রশস্ত করেছে। এছাড়া স্থানীয় মানুষের সহযোগিতা এবং সঠিক সামরিক গোয়েন্দা তথ্য (Army Intelligence) এই দীর্ঘস্থায়ী অপারেশনে সাফল্যের চাবিকাঠি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

অপারেশন ত্রাশি-১ ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীর শৌর্য এবং অটল সংকল্পের এক অনন্য উদাহরণ। তুষারপাত হোক বা বৃষ্টির ঝাপটা—দেশের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে ভারতীয় সেনা যে কোনো ত্যাগ স্বীকারে প্রস্তুত, তা আরও একবার প্রমাণিত হল কিশতওয়াড়ের মাটিতে।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *