উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: ‘অপারেশন সিঁদুর’ নিয়ে মঙ্গলবার লোকসভায় বিশেষ আলোচনায় (Operation Sindoor Debate In Parliament) কংগ্রেসকে একহাত নিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শা (Amit Shah)। এমনকি শা’র বক্তব্যে উঠে এল নেহরু আমলে পাকিস্তানের সঙ্গে হওয়া সিন্ধু জলচুক্তি ও অধিকৃত কাশ্মীর প্রসঙ্গও।
সোমবার শ্রীনগরে ‘অপারেশন মহাদেব’-এ (Operation Mahadev) সেনার গুলিতে খতম হয়েছে তিন জঙ্গি (Terrorists killed)। আর এই তিন জঙ্গিই পহেলগাঁওয়ের হামলার সঙ্গে যুক্ত ছিল (Pahalgam assault)। এদিন লোকসভায় এমনটাই জানান কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। পাশাপাশি শা বলেন, ‘কংগ্রেসের ভুলেই যাবতীয় সমস্যার সূত্রপাত। সেই সময় বিভাজন খারিজ করলে না পাকিস্তান থাকত, না এত সমস্যা থাকত।’ শা কংগ্রেসের উপর তীব্র আক্রমণ করে বলেন, ‘পাকিস্তান কংগ্রেসের ভুল’। এমনকি পাক অধিকৃত কাশ্মীর (পিওকে)-এর অস্তিত্বের জন্য সরাসরি প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহেরুকে দায়ী করেন তিনি।
গতকাল সংসদে বিরোধীরা প্রশ্ন তুলেছিল কেন অধিকৃত কাশ্মীর দখল না করে যুদ্ধ থামানো হল। সেই প্রসঙ্গ তুলে শা বলেন, ‘ওরা যুদ্ধ নিয়ে প্রশ্ন তুলছে। আমি বলব, আজ যে অধিকৃত কাশ্মীর নিয়ে এত সমস্যা তার অস্তিত্ব শুধুমাত্র জওহরলাল নেহরুর জন্য। উনি ১৯৬০ সালে পাকিস্তানকে সিন্ধুর ৮০ শতাংশ জল দিয়েছিলেন। ১৯৭১ সালে শিমলা চুক্তির সময় ওরাই (কংগ্রেস) অধিকৃত কাশ্মীরের কথা ভুলে গিয়েছিল। যদি তখন অধিকৃত কাশ্মীর ফেরত নেওয়া হত তাহলে আমাদের ওখানে অভিযান চালানোর প্রয়োজন পড়ত না।’ তিনি বলেন, সেই সময় নেহরুর একতরফা যুদ্ধবিরতির সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপত্তি জানিয়েছিলেন একমাত্র সর্দার বল্লভভাই প্যাটেল। সেই অতীত ইতিহাসের কথা সংসদে ফের তুলে ধরেন অমিত শা।
শা বলেন, ‘১৯৭১ সালে গোটা দেশ ইন্দিরা গান্ধিকে সমর্থন জানিয়েছিল। উনিই পাকিস্তানকে দুই ভাগে ভেঙেছিলেন। আজও গর্বের সঙ্গে ভারত ইন্দিরাজিকে স্মরণ করেন, আমিও করি। তবে সেই সময় ভারতের হাতে ছিল পাকিস্তানের ৯৩ হাজার যুদ্ধবন্দি ও ১৫ হাজার বর্গকিলোমিটার এলাকা। অথচ শিমলা চুক্তির সময় কংগ্রেস সরকার অধিকৃত কাশ্মীরের ফেরত চাওয়ার কথা ভুলে গেল। যদি সেই সময় অধিকৃত কাশ্মীর ফেরত নেওয়া হত তাহলে সাপও মরত, লাঠিও ভাঙত না। তখন পাক অধিকৃত কাশ্মীর তো ফেরানো হল না উলটে ১৫ হাজার বর্গকিমি জমি ফেরত দেওয়া হল।’ সংসদে বিরোধীদের নাম না করে শা’র মন্তব্য, ‘অপারেশন মহাদেব’-এ জঙ্গিরা খতম হয়েছে শুনে বিরোধীদের অনেকেই হয়তো খুশি হননি। বরং হতাশ হয়েছেন।’
