উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: পহেলগাঁও হামলার পর পাকিস্তানে অবস্থিত জঙ্গি ঘাঁটি ধ্বংস করতে ‘অপারেশন সিঁদুর’ শুরু করে ভারত। বেছে বেছে পাকিস্তান ও পাক অধিকৃত কাশ্মীরে জঙ্গিঘাঁটি নির্মূল করাই ছিল এই অপারেশনের লক্ষ্য আর সেই কাজে ১০০ শতাংশ সফল ভারতীয় সেনা। রবিবার এই কয়েকদিনের অপারেশন নিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয় সামরিক বাহিনী। উপস্থিত ছিলেন লেফটেন্যান্ট জেনারেল রাজীব ঘাই, এয়ার মার্শাল একে ভারতী, ভাইস অ্যাডমিরাল এএন প্রমোদ। সশস্ত্র বাহিনীর এই কর্তারাই অপারেশন সিন্দুরের বিভিন্ন অভিযান পরিচালনা করেছেন।
বাহিনীর তিন কর্তাদের তরফেই একটি কথা স্পষ্ট করে দেওয়া হয় পাকিস্তানি সেনা বা সীমান্তের ও পারের সাধারণ নাগরিকদের সঙ্গে ভারতের কোনো লড়াই নেই। ভারত মূলত সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধেই লড়াই করতেই পরিকল্পনা করেছিল। যেসব জঙ্গিঘাঁটি বা জঙ্গিদের নিধনের পরিকল্পনা করা হয়েছিল তা করা হয়েছে। ইউসুফ আজহার, আব্দুল মালিক রউফ এবং মুদাসসর আহমেদ-এর মতো জঙ্গিদেরও নিকেশ করা হয়েছে।
কিন্তু পাকিস্তান সেনাবাহিনী জঙ্গিদের হয়ে প্রত্যাঘাতের চেষ্টা করতেই ভারতকে পালটা আঘাত হানতে হয়েছে।
সেনাকর্তারা জানান, অত্যন্ত সতর্ক ভাবে টার্গেট বাছাই করা হয়েছে। সবসময় মাথায় রাখা হয়েছে যাতে সাধারণ পাকিস্তানিদের কোনও ক্ষতি না হয়। নিহত হয়েছে ১০০ জনের বেশি জঙ্গির, ৩৫-৪০ পাক সেনার মৃত্যু হয়েছে। এদিন ভারতীয় সেনা ছবি ও ভিডিওর মাধ্যমে গোটা অপারেশনের খুঁটিনাটি ব্যাখ্যা করেন। ডিজিএমও লেফটেন্যান্ট জেনারেল রাজীব ঘাই জানান, পাকিস্তান ও পিওকের ৯টি জঙ্গিঘাঁটি ধ্বংস করা হয়েছে। ১০০-র বেশি জঙ্গির মৃত্যু হয়েছে। নিহত জঙ্গিদের মধ্যে আইসি ৮১৪ অপহরণ এবং পুলওয়ামা হামলায় জড়িত জঙ্গিও রয়েছে। এয়ার মার্শাল একে ভারতী জানান, মূলত জঙ্গি প্রশিক্ষণ শিবিরগুলিকেই টার্গেট করেছিল ভারত। মুরিদকের জঙ্গি প্রশিক্ষণ শিবিরে বোমা ফেলা হয়েছিল। এখানেই লস্করের প্রশিক্ষণ শিবির ছিল।
ডিজিএমও লেফটেন্যান্ট জেনারেল রাজীব ঘাই জানান, ৯-১০ মে রাতে বড় আকারে হামলা করে পাকিস্তান। হামলার চেষ্টা করাহয় জনবহুল গ্রাম ও গুরুদ্বারেও। কিন্তু সেইসব হামলাই প্রতিহত করা হয়েছে। সামান্য কিছু মাটিতে পড়লেও তাতে বড় কোনও ক্ষতি হয়নি। কিন্তু পালটা ভারতের হামলায় পাকিস্তানি সেনার ৩৫-৪০ জওয়ানের মৃত্যু হয়েছে। অন্যদিকে সংঘাতের আবহে ভারতের সশস্ত্র বাহিনীর ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। তাঁর কথায়, ‘অপারেশন সিঁদুর সামগ্রিক ক্ষয়ক্ষতিকে এড়িয়ে শুধুমাত্র জঙ্গিদেরই শেষ করেছে। এই গোটা অভিযানে মোট ৯টি এলাকায় হামলা চালিয়েছে ভারতীয় সেনা। যার মধ্যে অন্যতম মুরিদকে। কয়েক দশক ধরে এই এলাকা থেকে হাজার হাজার জঙ্গি তৈরি করেছে লস্কর-ই-তৈবা। এমনকি, আজমল কাসব ও ডেভিড হেডলিরাও এই ঘাঁটিতেই প্রশিক্ষণ নিয়েছিল।’
বায়ুসেনার তরফে জানানো হয়, পাকিস্তানের চাকলালা, রফিকি-সহ বেশ কিছু সামরিক ঘাঁটিতে হামলা চালায় ভারতীয় বাহিনী। ভারত চাইলে এই ঘাঁটিগুলিকে সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দিতে পারত, কিন্তু নিয়ন্ত্রিত জবাব দেওয়া হয়েছে। মূলত ভারতের উদ্দেশ্য ছিল ভারত চাইলে কী করতে পারে সেটা পাকিস্তানকে বোঝানো।
