উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক : ভারতীয় সংসদীয় ইতিহাসে চার দশক পর এক বিরল মুহূর্তের সাক্ষী থাকল লোকসভা। স্পিকার ওম বিড়লাকে (Om Birla) সরানোর লক্ষ্যে বিরোধীদের আনা অনাস্থা প্রস্তাব বুধবার ধ্বনি ভোটে (Voice vote) খারিজ হয়ে গেল। শাসক শিবিরের সংখ্যাতত্ত্বের কাছে বিরোধীদের দাবি ধোপে না টিকলেও, বিতর্কের ঝড়ে উত্তাল হয়ে উঠল নিম্নকক্ষ।
অমিত শায়ের আক্রমণাত্মক রক্ষণ:
বিরোধীদের এই পদক্ষেপকে সংসদীয় রাজনীতির জন্য ‘দুর্ভাগ্যজনক’ বলে আখ্যা দিয়েছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শা। তিনি বলেন, “স্পিকার কোনো দলের নন, তিনি গোটা সভার নিরপেক্ষ অভিভাবক (Impartial custodian)। অথচ আজ তাকেও রাজনীতির আঙিনায় টেনে আনা হলো।” বিজেপি দীর্ঘ বছর বিরোধী আসনে থাকলেও কখনও স্পিকারের নিরপেক্ষতা নিয়ে এমন প্রশ্ন তোলেনি বলে মনে করিয়ে দেন শা। তিনি স্পষ্ট জানান, সংসদ কোনো উৎসব বা মেলা নয় যে যা খুশি করা যাবে; সভা চলবে নির্দিষ্ট নিয়ম মেনেই।
গণতন্ত্রের ‘কণ্ঠরোধ’ বনাম ‘মর্যাদা’:
অন্যদিকে, বিরোধী দলগুলি স্পিকারের বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের গুরুতর অভিযোগ এনেছে। আরজেডি সাংসদ অভয় কুমার সিনহা অভিযোগ করেন, এক দিনে ১৪০ জন সাংসদকে সাসপেন্ড করার মতো ‘কালো দিন’ এই সভার গরিমা (Parliamentary dignity) ম্লান করেছে। বিরোধীদের দাবি, স্পিকার এখন শাসকদলের ‘অস্ত্র’ হিসেবে কাজ করছেন। জেএমএম সাংসদ বিজয় কুমার হাঁসদা অভিযোগ করেন, বিরোধী সাংসদরা যখনই জনস্বার্থে কথা বলেন, তখনই ক্যামেরার মুখ ঘুরিয়ে দেওয়া হয় অথবা ‘না, না’ শব্দে তাদের কণ্ঠরোধ করা হয়।
আগামীকাল যা ঘটবে:
আগামীকাল বেলা ১১টায় পুনরায় সভার কাজ শুরু হবে। গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, আগামীকাল ওম বিড়লা নিজেই বিরোধীদের আচরণ নিয়ে সভায় একটি বিবৃতি দেবেন। বিরোধীদের অভিযোগ এবং সরকারের অনমনীয় অবস্থান— সব মিলিয়ে দিল্লির সংসদ ভবন এখন রাজনৈতিক মহারণের কেন্দ্রবিন্দু।
