উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনীতিতে ফের নতুন মোড়। বিশ্বজুড়ে পারমাণবিক অস্ত্রের মজুত ও ব্যবহারের প্রবণতা নিয়ে সুইডিশ থিংক ট্যাংক ‘সিপ্রি’ (SIPRI)-র বার্ষিক রিপোর্ট ২০২৬-এ উঠে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য। প্রথমবারের মতো ভারত তাদের ১২টি পারমাণবিক ওয়ারহেড (Nuclear Warheads) সামরিকভাবে মোতায়েন বা ‘অপারেশনালি ডেপ্লয়’ করেছে বলে জানিয়েছে এই সংস্থা।
সিপ্রি রিপোর্টের প্রধান পর্যবেক্ষণসমূহ:
- ভারতের অবস্থান: ইতিহাসে এই প্রথম ভারত তাদের পারমাণবিক ওয়ারহেডের একটি অংশ সক্রিয়ভাবে মোতায়েন করল। আগে ভারতের পারমাণবিক অস্ত্র মূলত মজুত বা ‘স্টকপাইল’-এর মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল।
- চীনের সামরিক প্রস্তুতি: চীনের পারমাণবিক তৎপরতাও বাড়ছে। গত বছর অর্থাৎ ২০২৫ সালে যেখানে চীনের সক্রিয় মোতায়েন করা ওয়ারহেডের সংখ্যা ছিল ২৪, ২০২৬ সালের জানুয়ারি নাগাদ তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৪-এ।
- বিশ্বের চিত্র: বর্তমানে বিশ্বে মোট ১২,১৮৭টি পারমাণবিক ওয়ারহেড রয়েছে, যার মধ্যে প্রায় ৪,০১২টি মিসাইল বা এয়ারক্রাফটে সক্রিয় অবস্থায় মোতায়েন আছে।
- অন্যান্য দেশ: পারমাণবিক শক্তিসম্পন্ন ৯টি দেশের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়া যথাক্রমে ১,৭৭০ এবং ১,৭৯৬টি ওয়ারহেড মোতায়েন করে তালিকার শীর্ষে রয়েছে। এছাড়া ফ্রান্সের ঝুলিতে রয়েছে ২৮০টি এবং যুক্তরাজ্যের ১২০টি সক্রিয় ওয়ারহেড।
গত বছরের মে মাসে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে চার দিনের এক সংক্ষিপ্ত কিন্তু তীব্র সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছিল। সিপ্রি তাদের রিপোর্টে উল্লেখ করেছে যে, সেই সংঘাতের সময় পাকিস্তান পারমাণবিক ব্ল্যাকমেইল বা হুমকি দেওয়ার পথ বেছে নিয়েছিল। ভারত সেই ‘নিউক্লিয়ার ব্লাফ’ বা পরমাণু যুদ্ধের ব্ল্যাকমেইল করার কৌশলের যথাযথ জবাব দিয়ে পরমাণু নিবারক শক্তির (Nuclear Deterrence) প্রথাগত ধারণাকে চ্যালেঞ্জ জানিয়েছে।
রিপোর্টে আরও বলা হয়েছে, “চীন এবং ভারত এখন থেকে শান্তিকালীন সময়েও অল্প সংখ্যক পারমাণবিক ওয়ারহেড মিসাইলে মোতায়েন রাখতে শুরু করেছে।” সিপ্রি সতর্ক করে জানিয়েছে যে, বিশ্বজুড়ে দেশগুলো জাতীয় শক্তির প্রতীক হিসেবে আগের চেয়ে অনেক বেশি পারমাণবিক অস্ত্রের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে, যা ভবিষ্যতের নিরাপত্তার জন্য চরম ঝুঁকিপূর্ণ।
বিশেষজ্ঞদের মতে, দক্ষিণ এশিয়ায় ভারতের এই পদক্ষেপ মূলত ক্রমবর্ধমান আঞ্চলিক অস্থিরতা মোকাবিলায় একটি বার্তা হিসেবেই দেখা হচ্ছে। তবে এই অস্ত্রের প্রতিযোগিতায় পরিস্থিতি কতটা জটিল হবে, তা নিয়ে এখন থেকেই বিশ্বজুড়ে চর্চা শুরু হয়েছে।
