বিহারের মুখ্যমন্ত্রীর পদ ছাড়লেন নীতীশ কুমার। জানিয়ে দিয়েছেন রাজ্যসভায় এবার প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন তিনি। আর এরপরই তাঁকে তোপ দাগলেন লালুপ্রসাদ যাদবের কন্যা রোহিণী আচার্য। দাবি করলেন, বিজেপিই বাধ্য করেছে নীতীশকে ক্ষমতা থেকে সরে যেতে। তাঁর খোঁচা, জেডিইউ প্রধান আসলে ‘বিজেপির পুতুল’।
এক্স হ্যান্ডলে তাঁকে লিখতে দেখা গিয়েছে, ‘নীতীশ কুমারজি বারবার তাঁর বন্ধুদের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন। নিজেকে অতল গহ্বরে ঠেলে দেওয়া এই দুর্দশার জন্য আপনি নিজেই দায়ী। আজ আপনার সঙ্গে যা কিছু ঘটছে তার ন্যায্য প্রাপক আপনিই।’
আরও পড়ুন:
দীর্ঘ পোস্টে তিনি আরও দাবি করেছেন, নীতীশ যেদিন ‘মহাগটবন্ধন’ ছাড়লেন অর্থাৎ ২৮ জানুয়ারি ২০২৪ তারিখেই তাঁর মসনদ ছাড়ার বিষয়টিও নিশ্চিত হয়ে গিয়েছিল। রোহিণী লিখেছেন, ‘চেয়ার আঁকড়ে থাকার তাঁর সহজাত প্রবণতার কারণেই নীতীশ কুমারজি আজ সেই বিজেপিরই হাতের পুতুলে পরিণত হয়েছেন, যারা নিজেদের জোটসঙ্গীদের রাজনৈতিক কবর খোঁড়ার জন্য কুখ্যাত।’
এক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের সূত্র বলছে, নীতীশের শারীরিক অবস্থা ভালো নয়। তাঁর পক্ষে ধকল নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। তাই মুখ্যমন্ত্রীর কুরসি ছেড়ে তিনি রাজ্যসভায় যাবেন। জেডিইউয়ের অন্দরে নাকি তেমনই সিদ্ধান্ত হয়েছে। বিহারে ৫ আসনের জন্য রাজ্যসভার নির্বাচনের মনোনয়ন দেওয়ার শেষদিন ৫ মার্চ। তার আগেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়ে যাবে। জেডিইউ সূত্র বলছে, নীতীশ রাজ্যসভায় চলে যাবেন। বদলে তাঁর ছেলে নিশান্ত কুমার সোজা উপমুখ্যমন্ত্রী হয়ে যেতে পারেন। কিন্তু বিজেপি সূত্রের দাবি, নিশান্ত বড়জোর উপমুখ্যমন্ত্রী হতে পারেন। মুখ্যমন্ত্রীর আসনে পদ্ম শিবিরের কাউকেই বসানো হবে। এও বলা হচ্ছে, জীবনসায়াহ্নে পৌঁছে বিজেপির কথামতো আসন ছেড়ে নীতীশ আসলে ছেলের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ সুনিশ্চিত করতে চাইছেন।
গত বছর বিধানসভা নির্বাচনে ২৪৩ আসনের মধ্যে ২০২ আসনেই জয়ী হয় এনডিএ। বিজেপি পায় সর্বোচ্চ ৮৯টি আসন। নীতীশের দল পেয়েছিল ৮৫ আসন। এরপর বর্ষীয়ান নীতীশ দশম বার মুখ্যমন্ত্রীর পদে শপথ নেন।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
