উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: বিহারের রাজনীতিতে ফের বড়সড়ো রদবদলের ইঙ্গিত। দশমবার মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার মাত্র চার মাসের মাথায় এবার সংসদীয় রাজনীতির উচ্চকক্ষ অর্থাৎ রাজ্যসভায় পা রাখতে চলেছেন জেডিইউ সুপ্রিমো নীতীশ কুমার (Nitish Kumar)। বৃহস্পতিবার বিধানসভায় গিয়ে নিজের মনোনয়ন পত্র দাখিল করবেন তিনি (Rajya Sabha nomination)। আর নীতীশের এই পদক্ষেপ ঘিরেই এখন তোলপাড় জাতীয় রাজনীতি। প্রশ্ন উঠছে, তবে কি বিহারের মুখ্যমন্ত্রীর (Bihar CM) কুর্সি ছাড়তে চলেছেন তিনি? আর এমনটা হলে কে হবেন তাঁর উত্তরসূরি?
বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টা নাগাদ এনডিএ-র অন্যান্য প্রার্থীদের সঙ্গে নিয়ে বিধানসভায় মনোনয়ন জমা দেবেন নীতীশ কুমার। তাঁর সঙ্গে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাও থাকবেন বলে শোনা যাচ্ছে। এই মনোনয়ন পর্বকে কেন্দ্র করে বুধবার রাত থেকেই পাটনায় সাজ সাজ রব। জেডিইউ নেতা সঞ্জয় ঝার বাসভবনে গভীর রাত পর্যন্ত চলেছে রুদ্ধদ্বার বৈঠক। রাজনৈতিক মহলের মতে, এটি কেবল একটি মনোনয়ন নয়, বরং বিহারের ক্ষমতা হস্তান্তরের একটি পরিকল্পিত কৌশল।
রাজ্যসভায় নির্বাচিত হলে নীতীশ কুমার এক বিরল কৃতিত্বের অধিকারী হবেন। তিনি বিহার বিধানসভা, বিধান পরিষদ এবং লোকসভার পর এবার রাজ্যসভারও সদস্য হবেন। এর ফলে ভারতের সংসদীয় কাঠামোর চারটি কক্ষেরই সদস্য হওয়ার রেকর্ড গড়বেন তিনি।
জেডিইউ সূত্রে খবর, আগামী ১৬ মার্চ রাজ্যসভা নির্বাচন পর্যন্ত নীতীশ কুমার মুখ্যমন্ত্রী পদে বহাল থাকতে পারেন। কিন্তু তারপর কে বসবেন বিহারের মসনদে, তা নিয়ে এনডিএ শিবিরের অন্দরে চলছে জোর চর্চা। বিরোধী দল আরজেডিও এই পরিস্থিতিতে পঞ্চম আসনে প্রার্থী দিয়ে লড়াই জমিয়ে দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
কয়েকটি সংবাদমাধ্যমের দাবি, নিশান্তকে উপমুখ্যমন্ত্রী করে বিহারের প্রশাসনিক রাশ হাতে নিতে পারে বিজেপি। সে ক্ষেত্রে নীতীশের উত্তরসূরি হিসেবে দৌড়ে এগিয়ে রয়েছেন বর্তমান উপমুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধুরী। যদি তাই হয়, তবে বিহারের ইতিহাসে এই প্রথম বিজেপির কেউ মুখ্যমন্ত্রী পদে বসবেন। সেই সঙ্গে জল্পনা চড়েছে নীতীশ-পুত্র নিশান্ত কুমারকে নিয়েও। জেডিইউ নেতা শারওয়ান কুমার আগেই ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে, দু-এক দিনের মধ্যেই সক্রিয় রাজনীতিতে অভিষেক হতে চলেছে নিশান্ত কুমারের। তাঁকে দলে বড় কোনও দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে বলেও আভাস মিলেছে।
উল্লেখ্য, নভেম্বরেই বিপুল জয়ের পর বিহারের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছিলেন নীতীশ। কিন্তু হঠাৎ তাঁর দিল্লি যাত্রার এই সিদ্ধান্তে বিহারের রাজনৈতিক সমীকরণ কোন দিকে মোড় নেয়, এখন সেদিকেই নজর গোটা দেশের।
