উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: উত্তর দিনাজপুরের রাজনৈতিক পারদ এক ধাক্কায় অনেকটা বাড়িয়ে দিলেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নীতিন নবীন। সোমবার ইসলামপুরে বিজেপির বিজেপি-র রথযাত্রা সূচনা অনুষ্ঠানে তিনি সাফ জানিয়ে দিলেন, রাজ্যে পদ্ম শিবির ক্ষমতায় এলেই ‘ইসলামপুর’-এর নাম বদলে রাখা হবে ‘ঈশ্বরপুর’। শঙ্খধ্বনির মাধ্যমে এই পরিবর্তনের সংকল্প নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে কার্যত মেরুকরণের সুর বেঁধে দিলেন তিনি।
নাম বদলের নেপথ্যে ঐতিহাসিক যুক্তি
বক্তব্য রাখতে উঠে শুরুতেই নীতিন নবীন জনতাকে প্রশ্ন করেন, ইসলামপুরকে ঈশ্বরপুর বানাতে তাঁরা কতটা প্রস্তুত। তাঁর দাবি, এই মাটির সাথে জড়িয়ে আছে হিন্দু রাজা লক্ষ্মণ সেন, সমাজসংস্কারক ঠাকুর পঞ্চানন বর্মা এবং বিপ্লবী পূর্ণচন্দ্র দাসের স্মৃতি। বিজেপির শীর্ষ নেতার কথায়, ‘বাংলার এই মাটি যার নাম ইসলামপুর, তাকে ঈশ্বরপুর বানানোর জন্য কী করতে হবে? ইসলামপুরকে ঈশ্বরপুর করার জন্য বিজেপি-র এই পরিবর্তন যাত্রাকে শঙ্খধ্বনি দিয়ে স্বাগত জানান৷ ইসলামপুর আর থাকবে না, ঈশ্বরপুর হবে৷ আপনাদের স্বপ্ন পূরণ হবে৷ রাজবংশী সম্প্রদায়ের মহান সমাজ সংস্কারক ঠাকুর পঞ্চানন বর্মা, বাংলার শেষ হিন্দু রাজা লক্ষ্মণ সেন এবং স্বাধীনতা সংগ্রামী পূর্ণচন্দ্র দাসের স্মৃতি বিজড়িত এই মাটিকে ঈশ্বরপুর আমরা বানিয়েই ছাড়ব৷’
অনুপ্রবেশকারী ইস্যুতে মুখ্যমন্ত্রীকে কড়া আক্রমণ
শুধুমাত্র নাম বদল নয়, এদিন অনুপ্রবেশকারী এবং সিআইআর (SIR) ইস্যুতেও তৃণমূল নেত্রীকে সরাসরি নিশানা করেন নীতিন নবীন। তিনি অভিযোগ করেন, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এদেশীয় মা-বোনেদের বিপদে চুপ থাকলেও ‘রোহিঙ্গা’দের বাঁচাতে মরিয়া। নীতিনের কথায়: ‘বাংলাদেশী রোহিঙ্গাদের জন্য কালো কোর্ট পড়ে সুপ্রিম কোর্টে গিয়েছিলেন, কিন্তু এখানকার মা বোনদের কিছু হলে তখন মুখ্যমন্ত্রী চুপ করে থাকেন। বাংলাদেশী ভোটারদের বাঁচানোর জন্য ধর্নায় বসতে চলেছেন মুখ্যমন্ত্রী। কিন্তু আমরা আসাম, বিহারে বাংলাদেশী অনুপ্রবেশকারী রোহিঙ্গাদের চিহ্নত করে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করেছি।’
