নিশিগঞ্জ: কোচবিহার জেলায় বিজেপির শক্ত ঘাঁটি মাথাভাঙ্গা বিধানসভা আসনে এবার ছক কষে মাঠে নামছে রাজ্যের শাসকদল। মার্চের শুরুতেই বিধানসভা ভোটের নির্বাচনি নির্ঘণ্ট প্রকাশিত হবে ধরে নিয়ে আগামী ২ সপ্তাহের মধ্যেই মাথাভাঙ্গা বিধানসভার ২৭৬টি বুথের মধ্যে অধিকাংশ বুথ ও অঞ্চল স্তরের সম্মেলন শেষ করতে চাইছে তৃণমূল শিবির। সোমবার বিকেলে নিশিগঞ্জ নেতাজি সুভাষ সদনে তৃণমূলের মাথাভাঙ্গা বিধানসভার বিশেষ কর্মীসভা হয়। সভায় উপস্থিত ছিলেন তৃণমূলের কোচবিহার জেলা সভাপতি অভিজিৎ দে ভৌমিক (হিপ্পি), চেয়ারম্যান গিরীন্দ্রনাথ বর্মন, প্রাক্তন মন্ত্রী বিনয়কৃষ্ণ বর্মন প্রমুখ। ছাব্বিশের নির্বাচনে ঘুরে দাঁড়াতে বাড়তি সতর্ক শাসক শিবির।
এদিন হিপ্পি বলেন, ‘ভোট ঘোষণার আগে দু’সপ্তাহের মধ্যেই বুথ সম্মেলন শেষ করতে হবে। ২০২৪ লোকসভা নির্বাচনের পর নতুন করে পাড়ায় সমাধান, যুবসাথী প্রকল্পের পাশাপাশি লক্ষ্মীর ভাণ্ডারে বরাদ্দ বৃদ্ধি হয়েছে। সেই অ্যাডভান্টেজকে কাজে লাগিয়ে প্রচারে ঝাঁপানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’ সভায় জেলা নেতৃত্ব নির্দেশ দেয় গ্রামে-গ্রামে যুবসাথী প্রকল্পের জন্য সহায়তা শিবির করে সরকারের উন্নয়নের কথা মানুষের কাছে তুলে ধরতে হবে। শহরের মানুষের মন পেতে মাথাভাঙ্গা পুরসভার চেয়ারম্যান প্রবীর সরকারকে ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে কর্মসূচি নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।
এদিন প্রাক্তন মন্ত্রী বিনয়কৃষ্ণ বর্মন ও দলের চেয়ারম্যান গিরীন্দ্রনাথ বর্মন মাথাভাঙ্গার হারানো জমি উদ্ধারের কথা বলেন। ছক কষে তা হাসিল করতে বিভিন্ন পরিকল্পনার কথা বলেন দলের জেলা সভাপতি। কোচবিহার জেলার যে এলাকাগুলি বিজেপির শক্ত ঘাঁটি তার মধ্যে মাথাভাঙ্গা বিধানসভা আসন রয়েছে। মাথাভাঙ্গা শহর, মাথাভাঙ্গা ১ ব্লকের হাজরাহাট ১, হাজরাহাট ২, পচাগড় ও মাথাভাঙ্গা-২ ব্লকের ১০টি গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকা নিয়ে মাথাভাঙ্গা বিধানসভা গঠিত। গত ২০২১ সালে এই কেন্দ্রে বিজেপির কাছে পরাজিত হন তৃণমূলের বর্তমান চেয়ারম্যান গিরীন্দ্রনাথ বর্মন। পঞ্চায়েত ভোটেও মাথাভাঙ্গা-২ ব্লকে ছয়টি গ্রাম পঞ্চায়েত দখল করে বিজেপি।
এদিন গ্রাম পঞ্চায়েত ধরে ধরে তৃণমূল নেতারা দলীয় কর্মীদের বোঝান ভোটের বাকি থাকা দেড় মাস সময় কতটা গুরুত্বপূর্ণ। রুইডাঙ্গা, ফুলবাড়ি অঞ্চল বাদ দিলে অধিকাংশ বুথে দলের সম্মেলন করে সংগঠন মজবুত করার নির্দেশ দেওয়া হয়। এদিন নিশিগঞ্জ-১ অঞ্চল কমিটির নতুন সভাপতি হিসাবে অতনু সাহা ও চেয়ারম্যান হিসাবে নিরঞ্জন দাসের নাম ঘোষণা করেন তৃণমূল জেলা সভাপতি। তবে অঞ্চল কমিটির নতুন নাম প্রকাশ্যে আসতেই শুরু হয়েছে দলীয় কোন্দল। তৃণমূলের নিশিগঞ্জ-১ অঞ্চল কমিটির নতুন চেয়ারম্যান বলেন, ‘আমি এই পদ থেকে খুব শীঘ্রই ইস্তফা দেব। সাধারণ পঞ্চায়েত সদস্য হিসাবেই দলে কাজ করতে চাই।’ বেশ কিছুদিন ধরেই অতনু না নিরঞ্জন, কে অঞ্চল সভাপতি হবে এই নিয়ে এলাকায় চর্চা চলছিল। এদিন অঞ্চল সভাপতির নাম ঘোষণা হতেই চেয়ারম্যানের ‘অভিমান’ ফের বিড়ম্বনা বাড়াল শাসক শিবিরের।
