রণজিৎ ঘোষ, কালিম্পং: সেবক থেকে কালিম্পং এবং সিকিমগামী ১০ নম্বর জাতীয় সড়ক (NH10) মেরামতি ও সম্প্রসারণের কাজ হাতে নিয়েছে ন্যাশনাল হাইওয়ে ইনফ্রাস্ট্রাকচার অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট কর্পোরেশন লিমিটেড (এনএইচআইডিসিএল)। এই রাস্তায় বিভিন্ন ধসপ্রবণ এলাকাগুলিতে নদীর দিকে অনেকটা নীচ থেকে কংক্রিটের দেওয়াল তুলে ধস আটকানোর চেষ্টা শুরু হয়েছে। এনএইচআইডিসিএল সূত্রে জানা গিয়েছে, এই কাজ পুরোপুরি শেষ করতে আরও এক বছর সময় প্রয়োজন।
আগামী বর্ষায় এই জাতীয় সড়কে যতটা সম্ভব ধস আটকানোর চেষ্টা চলছে। দার্জিলিংয়ের সাংসদ রাজু বিস্ট বলছেন, ‘কালিম্পং ও সিকিমের লাইফলাইনকে সচল রাখতে সবরকম চেষ্টা করা হচ্ছে। ইতিমধ্যেই এনএইচআইডিসিএল যুদ্ধকালীন তৎপরতায় রাস্তা মেরামতি এবং ধস আটকানোর জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করেছে। দীর্ঘকালীন ভিত্তিতেও এই রাস্তার সম্প্রসারণ এবং সংরক্ষণ নিয়ে ডিটেইলস প্রোজেক্ট রিপোর্ট (ডিপিআর) তৈরি হচ্ছে।’
কালিম্পং ও সিকিমের লাইফলাইন ১০ নম্বর জাতীয় সড়ক নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই সমস্যা চলছে। মাঝেমধ্যেই পাহাড় থেকে ধস নেমে পুরো রাস্তা অবরুদ্ধ হয়ে পড়ছে। আবার কখনও বড় বড় বোল্ডার এবং পাথুরে মাটি পাহাড়ের উঁচু থেকে আছড়ে পড়ে গোটা রাস্তা ভেঙে তিস্তায় তলিয়ে যাচ্ছে। গত বছরও এভাবে বেশ কিছুদিন করে কালিম্পং ও সিকিমের সঙ্গে সমতলের সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়েছিল। এই সমস্যা কাটিয়ে ওঠার জন্য কালিম্পং ও সিকিমে যাতায়াতের বিকল্প সড়ক তৈরির কাজ চলছে। কিন্তু এখনও সেই রাস্তার কাজ সম্পূর্ণ না হওয়ায় আপাতত ১০ নম্বর জাতীয় সড়কই একমাত্র ভরসা।
গুরুত্বের কথা বিবেচনা করে দেড় বছর আগে এই রাস্তাটি রাজ্য পূর্ত দপ্তরের হাত থেকে নিয়ে কেন্দ্রীয় সংস্থা এনএইচআইডিসিএল-কে দেওয়া হয়। সেই সংস্থাই রাস্তাটির রক্ষণাবেক্ষণের কাজ শুরু করেছে। সেবকের পর থেকে কালিঝোরা, বিরিকদাড়া, লোহাপুল, ২৯ মাইল, স্বেতিঝোরার মতো ধসপ্রবণ এলাকাগুলিতে তিস্তা নদীর চরের কাছাকাছি জায়গা থেকে কংক্রিটের গার্ডওয়াল তুলে রাস্তা সংস্কারের কাজ চলছে। আগামী বর্ষার কথা মাথায় রেখে প্রতিটি জায়গায় একসঙ্গে প্রচুর শ্রমিককে কাজে নামানো হয়েছে। বিরিকদাড়ায় কর্মরত একজন জব অ্যাসিস্ট্যান্ট বলছেন, ‘এরাজ্য এবং বিহারের মিলিয়ে এখানে প্রায় ২০০ শ্রমিক কয়েক মাস ধরে কাজ করছেন। এই গার্ডওয়ালের কাজ শেষ হতে আরও অন্তত চার-পাঁচ মাস সময় প্রয়োজন হবে। ২৯ মাইল এবং রম্ভির মাঝে রাস্তার কিছুটা অংশ খারাপ থাকলেও মোটের ওপর কালিম্পংয়ে যাতায়াতের রাস্তা বর্তমানে অনেকটাই উন্নত হয়েছে।’ এনএইচআইডিসিএল সূত্রে খবর, এই কাজের জন্য কেন্দ্রীয় সড়ক পরিবহণমন্ত্রক প্রথম পর্যায়ে প্রায় ২২০ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে।
নদীর দিকের গার্ডওয়ালের পাশাপাশি পাহাড়ের দিকেও অনেক জায়গায় কংক্রিটের দেওয়াল তুলে ধস মোকাবিলার কাজ চলছে। সেবক থেকে কালিঝোরার মাঝে এই কাজ শুরু হয়েছে। জানা গিয়েছে, এই জাতীয় সড়ককে চালু রাখতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা করা হচ্ছে। সেবক থেকে তিস্তাবাজার পর্যন্ত পুরো রাস্তাতেই পাহাড় কেটে চওড়া করা এবং নদীর দিকে পুরোপুরি গার্ডওয়াল দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এই জন্য ডিপিআর তৈরি হচ্ছে।
