উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: বিধানসভা নির্বাচনের (Meeting Election 2026) দামামা বাজতেই বাংলা সহ ভোটমুখী রাজ্যগুলিতে প্রশাসনিক রাশ আরও শক্ত করল নির্বাচন কমিশন। আদর্শ আচরণবিধি (এমসিসি) কার্যকর হওয়ার পর এবার আরও আটটি নির্দিষ্ট নির্দেশিকা (New ECI pointers for election) জারি করা হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গ (West Bengal Meeting Election 2026), অসম, কেরল, তামিলনাড়ু এবং পুদুচেরির জন্য এই নিয়মগুলি কঠোরভাবে মেনে চলার কড়া বার্তা দিয়েছে কমিশন।
সরকারি সম্পত্তি ও বিজ্ঞাপনে নিষেধাজ্ঞা:
কমিশনের স্পষ্ট নির্দেশ, সমস্ত সরকারি অফিস, ভবন এবং চত্বর থেকে যাবতীয় রাজনৈতিক বিজ্ঞাপন, হোর্ডিং ও পোস্টার অবিলম্বে সরিয়ে ফেলতে হবে। কোনো রাজনৈতিক দল বা প্রার্থী প্রচারের কাজে সরকারি গাড়ি ব্যবহার করতে পারবেন না। এমনকি সরকারি কোষাগারের টাকা খরচ করে কোনো ধরনের নির্বাচনি বিজ্ঞাপন দেওয়া যাবে না বলেও সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।
ব্যক্তিগত সম্পত্তিতে হস্তক্ষেপ নয়:
রাজনৈতিক দলগুলির লাগামহীন প্রচার রুখতে কমিশন জানিয়েছে, কোনো বাড়ির মালিকের অনুমতি ছাড়া সেই বাড়ির সামনে সভা বা সমাবেশ করা যাবে না। দেওয়াল লিখন বা দলীয় পতাকা লাগানোর ক্ষেত্রেও গৃহকর্তার লিখিত অনুমতি বাধ্যতামূলক। ব্যক্তিগত পরিসরে রাজনৈতিক দাপট রুখতেই এই পদক্ষেপ বলে মনে করা হচ্ছে।
দ্রুত পদক্ষেপ ও কড়া নজরদারি:
নির্বাচনি বিধিভঙ্গ রুখতে এবার প্রযুক্তির ওপর জোর দিচ্ছে কমিশন। যেকোনো অভিযোগ জানানোর জন্য ‘১৯৫০’ নম্বরটি চালু করা হয়েছে। এছাড়া সাধারণ মানুষ ‘সি-ভিজিল’ (cVIGIL) অ্যাপের মাধ্যমে সরাসরি ছবি বা ভিডিও তুলে অভিযোগ জানাতে পারবেন। কমিশনের দাবি, অভিযোগ পাওয়ার ১০০ মিনিটের মধ্যে ব্যবস্থা নেবে ফ্লাইং স্কোয়াড। এই কাজের জন্য ৫,৭১৩টির বেশি ফ্লাইং স্কোয়াড এবং ৫,২০০টি স্ট্যাটিক সারভেল্যান্স টিম মোতায়েন করা হচ্ছে। অবাধ ও শান্তিপূর্ণ ভোট সুনিশ্চিত করতে নির্বাচন কমিশনের এই ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি রাজনৈতিক দলগুলির ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করল বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
