উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্কঃ বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে সহবাস এবং ধর্ষণের অভিযোগে অভিযুক্ত এক ব্যক্তির জামিনের আবেদন শুনতে গিয়ে বিবাহ-পূর্ব শারীরিক সম্পর্ক নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন তুলল দেশের শীর্ষ আদালত। সোমবার শুনানির সময় সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি বি ভি নাগারত্ন মন্তব্য করেন যে, বিয়ের আগে যুবক-যুবতীরা একে অপরের কাছে কার্যত ‘অপরিচিত’। তাই শারীরিক সম্পর্কের মতো বিষয়ে লিপ্ত হওয়ার আগে প্রত্যেকেরই চরম সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত।
আদালতের পর্যবেক্ষণ: ‘আমরা সেকেলে হতে পারি, কিন্তু…’
শুনানি চলাকালীন বিচারপতি নাগারত্ন সরাসরি আবেদনকারিণীকে উদ্দেশ্য করে বলেন, “হয়তো আমরা সেকেলে (old style), কিন্তু বিয়ের আগে একটি ছেলে এবং একটি মেয়ে সম্পূর্ণ অপরিচিত। সম্পর্কের গভীরতা যাই হোক না কেন, বিয়ের আগে তারা কীভাবে শারীরিক সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ে, তা আমাদের বোধগম্য নয়।” তিনি আরও যোগ করেন, “আপনাদের খুব সতর্ক থাকতে হবে। বিয়ের আগে কাউকে এভাবে বিশ্বাস করা উচিত নয়।”
দুবাই সফর নিয়ে প্রশ্ন
মামলার বিবরণে জানা গেছে, ২০২২ সালে একটি ম্যাট্রিমোনিয়াল ওয়েবসাইটের মাধ্যমে ওই নারী ও পুরুষের পরিচয় হয়। বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ওই ব্যক্তি দিল্লির পাশাপাশি দুবাইয়েও নারীর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক গড়ে তোলেন বলে অভিযোগ। তবে পরে জানা যায়, অভিযুক্ত ব্যক্তি আগে থেকেই বিবাহিত ছিলেন এবং ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে তিনি অন্য এক নারীকে বিয়ে করেন।
বিচারপতি নাগারত্ন প্রশ্ন তোলেন, বিয়ের আগেই ওই নারী কেন অভিযুক্তের সঙ্গে দুবাই ভ্রমণে গিয়েছিলেন? তিনি বলেন, “বিয়ের ব্যাপারে তিনি যদি এতটাই কঠোর হতেন, তবে বিয়ের আগে তাঁর বিদেশ ভ্রমণে যাওয়া উচিত হয়নি। এগুলি সম্মতির ভিত্তিতে তৈরি হওয়া সম্পর্ক। এখানে বিচার বা সাজা দেওয়ার চেয়ে বিষয়টি মধ্যস্থতার (Mediation) মাধ্যমে সমাধান করা শ্রেয়।”
মূল অভিযোগ ও আইনি বিতর্ক
অভিযোগকারিণীর দাবি, ওই ব্যক্তি তাঁকে বিয়ের মিথ্যে প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রতারণা করেছেন। এমনকি অনুমতি ছাড়াই তাঁদের অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ভিডিও রেকর্ড করা হয়েছে এবং পরে তা ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, অভিযুক্তের জামিনের স্বপক্ষে যুক্তি দেওয়া হয় যে এটি একটি আপোসে গড়ে ওঠা সম্পর্ক ছিল। আগামী বুধবার এই মামলার পরবর্তী শুনানি হবে। আদালত দুই পক্ষকেই বিষয়টি আলোচনার মাধ্যমে মিটিয়ে নেওয়ার সম্ভাবনা খতিয়ে দেখতে বলেছে।
