খড়িবাড়ি: প্রতিবেশী দেশ নেপালে বইছে নির্বাচনের (Nepal Election) হাওয়া। বাংলাদেশের (Bangladesh) সাম্প্রতিক গণঅভ্যুত্থানের রেশ কাটতে না কাটতেই, নেপালের অন্তর্বর্তী সরকারের উদ্যোগে আগামী ৫ মার্চ বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত হতে চলেছে সাধারণ নির্বাচন। এই নির্বাচনকে অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ রাখতে মঙ্গলবার ভোর থেকেই ভারত-নেপাল সীমান্ত পুরোপুরি সিল (Nepal Border Sealed) করে দেওয়া হলো। উত্তরবঙ্গের পানিট্যাংকি সীমান্ত সহ খড়িবাড়ির বিভিন্ন পয়েন্টে মোতায়েন করা হয়েছে অতিরিক্ত এসএসবি (SSB) জওয়ান।
নেপালের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের পক্ষ থেকে গত ২৬ ফেব্রুয়ারি একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছিল। সেই নির্দেশিকা মেনেই ৩ মার্চ রাত ১২টা থেকে ৫ মার্চ রাত ১২টা পর্যন্ত সীমান্ত বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে সীমান্ত সম্পূর্ণ বন্ধ থাকলেও মানবিক কারণে কিছু ক্ষেত্রে শিথিলতা রাখা হয়েছে। এসএসবি সূত্রে খবর, ভারত থেকে শুধুমাত্র নেপালের নাগরিকরা তাঁদের পরিচয়পত্র দেখিয়ে স্বদেশে ফিরতে পারছেন। একইভাবে নেপালে আটকে থাকা ভারতীয় পর্যটক বা শ্রমিকরা ভারতে প্রবেশের অনুমতি পাচ্ছেন। তবে এই তিন দিন দুই দেশের মধ্যে সমস্ত ধরণের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে। শুধুমাত্র জরুরি পরিষেবার অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার সকালে পানিট্যাংকি সীমান্তে দেখা গেল এক ভিন্ন ছবি। নেপাল থেকে প্রচুর ভারতীয় নাগরিক নিজেদের দেশে ফিরে আসেন। অন্যদিকে, ভারতে কর্মরত বা বসবাসকারী নেপালি নাগরিকদের দেশে ফেরার জন্য সীমান্তে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করতে দেখা যায়। এই সীমান্ত সিলের জেরে সাধারণত পানিট্যাংকি বাজারের ব্যবসা-বাণিজ্য ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়ে। তবে এবার ব্যবসায়ীরা কিছুটা আশার আলো দেখছেন। পানিট্যাংকি ব্যবসায়ী সমিতির যুগ্ম সম্পাদক দীপক চক্রবর্তী জানান, “সীমান্ত বন্ধ থাকলে ব্যবসা লাটে ওঠার সম্ভাবনা থাকে ঠিকই, তবে দোল উৎসব থাকায় এবার লোকসানের আশঙ্কা তেমন নেই।”
নেপালের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে শিলিগুড়ি মহকুমার সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা চরম পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। গোয়েন্দা নজরদারির পাশাপাশি মেটাল ডিটেক্টর দিয়ে তল্লাশি চালানো হচ্ছে। নির্বাচনের দিন অর্থাৎ বৃহস্পতিবার পর্যন্ত দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে সমন্বয় বজায় রেখে কড়া নজরদারি চলবে বলে জানা গিয়েছে।
