প্রণব সূত্রধর, আলিপুরদুয়ার: মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় জয়ন্তী, জলদাপাড়া, শিলিগুড়ি ও কোচবিহার রুটে চারটি বাস বসিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিল উত্তরবঙ্গ রাষ্ট্রীয় পরিবহণ নিগম (NBSTC)। আগামী ২৩ ও ২৪ ফেব্রুয়ারি ওই চারটি বাসের ১৫ বছর পূর্ণ হবে। অর্থাৎ, সরকারি নিয়ম অনুযায়ী বাসগুলিকে মেয়াদ উত্তীর্ণ হিসেবে ধরা হবে। নিগমের আলিপুরদুয়ার ডিপোতে রিজার্ভ বাস না থাকায় জলদাপাড়া ও জয়ন্তীর জঙ্গল রুটে সমস্যা দেখা দিতে পারে। উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা চলাকালীন জয়ন্তী রুটে নিগমের বাস না চললে, পরিস্থিতি কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে বুঝে উঠতে পারছেন না অনেকেই। সমস্যার কথা স্বীকার করে নিয়ে আলিপুরদুয়ার ডিপো ইনচার্জ প্রশান্ত সাহা বলেন, ‘ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে এ বিষয়ে অবগত করা হয়েছে। ডিপোতে কম করে আরও ১০টি বাসের প্রয়োজন। বাস পাওয়া গেলেই সমস্যা মিটবে।’
আলিপুরদুয়ার ডিপো সূত্রে জানা গিয়েছে, এখানে ৪৫টি বাস রয়েছে। এর মধ্যে প্রতিদিন দু’তিনটি বাস গ্যারাজে যায় মেরামতের জন্য। ফলে অতিরিক্ত বাস পাওয়া সম্ভব হয় না। রিজার্ভ বাস না থাকায় কোনও রুটে অতিরিক্ত বাসের প্রয়োজন দেখা দিলে সমস্যা তৈরি হয়। সাধারণত আলিপুরদুয়ার ডিপো থেকে কোচবিহার রুটে আটটির বেশি বাস চলাচল করে। কোচবিহার রুটে বাসের সংখ্যা কমিয়ে প্রয়োজন মতো জয়ন্তী রুটে বাস চালানো যায় কি না, তা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে কোচবিহার রুটে ছোট বাসের সংখ্যা বেশি। ওই বাস জয়ন্তী রুটে চালানো ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে বলে মনে করছেন এনবিএসটিসি-র কর্তারা। জয়ন্তীতে চলছে ৫০ আসনের বাস। নিগমের চেয়ারম্যান পার্থপ্রতিম রায়কে ফোন করে পাওয়া যায়নি। নিগমের ম্যানেজিং ডিরেক্টর দীপঙ্কর পিপলাই বলেন, ‘সম্প্রতি কয়েকটি বাসের মেয়াদ উত্তীর্ণ হবে। বাসের সমস্যা মেটাতে ১০৬টি বাসের টেন্ডার করা হয়ছে। তার মধ্যে ৬৭টি সিএনজি এবং ৩৮টি ডিজেল বাস। তবে ওই বাস পেতে কয়েকমাস সময় লাগতে পারে। প্রয়োজন হলে বিকল্প বাসের ব্যবস্থা করা হবে।’ উল্লেখ্য, কিছুদিন আগেই আলিপুরদুয়ার ডিপোতে সিএনজি বাস আসার কথা ছিল। তবে পরিকাঠামোগত সমস্যার কারণে ওই বাস আসেনি।
