বুল নমদাস, নয়ারহাট : মাথাভাঙ্গা মহকুমা তো বটেই, কোচবিহার জেলার মধ্যেও পুরোনো পারিবারিক দুর্গাপুজোগুলির মধ্যে অন্যতম শিকারপুরের প্রামাণিকবাড়ির দুর্গাপুজো। এই পুজো এবার ১০০ বছরে পড়ল। এখানে স্থায়ী মন্দিরে অষ্টধাতুর মূর্তির পুজো হয়। পুজোর আর এক সপ্তাহও বাকি নেই। ফলে শতাব্দীপ্রাচীন এই পুজোর প্রস্তুতি নিয়ে প্রামাণিক বাড়িতে শুরু হয়েছে ব্যস্ততা।
বাড়ির সদস্যরা জানালেন, প্রয়াত সুনন্দ প্রামাণিকের হাত ধরে ১৩৩২ বঙ্গাব্দে এই বাড়িতে দুর্গাপুজো শুরু হয়েছিল। সেসময় এলাকায় জমিদার হিসাবে সুনন্দর খ্যাতি ছিল। তাঁর সঙ্গে কোচবিহার রাজপরিবারেরও সখ্য ছিল। একসময় এই বাড়ির পুজোয় উপস্থিত থাকার জন্য আশপাশের প্রচুর লোককে আমন্ত্রণ জানানো হত। মণ্ডপের সামনে যাত্রাগানের আসর বসত। সাধারণ মানুষ এবং প্রজাদের ভিড়ে মন্দির প্রাঙ্গণ গমগম করত। গানের আসরে উপস্থিত সকলকেই পেটপুরে খাওয়ানোর ব্যবস্থা করা হত। মণ্ডপের সামনে বসত মেলাও। গোরুর গাড়িতে করে মানুষ পুজো দেখতে আসতেন।
এখন অবশ্য সেসব অতীত। পুরোনো দিনের মতো জাঁকজমক না হলেও নিয়মনিষ্ঠায় এতটুকু চিড় ধরেনি প্রামাণিকবাড়ির দুর্গাপুজোয়। আড়ম্বর কমলেও কৌলীন্যের ছাপ স্পষ্ট শতাব্দীপ্রাচীন এই পুজোয়। আধুনিকতা এবং থিমসর্বস্ব পুজোর যুগেও এখানে অষ্টধাতুর মূর্তি পূজিত হয়। ষষ্ঠী থেকে নবমী, মায়ের সামনে বলি দেওয়ার রীতি রয়েছে।
বর্তমানে পুজোর সেবায়েত গীতা প্রামাণিক। দুর্গা মন্দিরের নামে সম্পত্তি রয়েছে। সেখান থেকেই পুজোর যাবতীয় খরচ বহন করা হয়। জ্ঞাতিরাও পুজোয় সহযোগিতা করেন। প্রামাণিকবাড়ির সদস্য অজিত প্রামাণিক বলেন, ‘কয়েক বছর আগে দুর্গা, সরস্বতী, লক্ষ্মী এবং কার্তিকের মূর্তি চুরি গিয়েছে। তখন থেকে গণেশ ও অসুর বাদে বাকি দেবদেবীর ঘটপুজো করা হয়। মনস্কামনা পূরণের আশায় অনেকেই দেবীর চরণে মানত করেন।’ সবমিলিয়ে, ঐতিহ্য এবং নিয়মনিষ্ঠার মিশেলে এখনও উজ্জ্বল প্রামাণিকবাড়ির দুর্গাপুজো। এলাকার প্রাক্তন পঞ্চায়েত সদস্য দেবেশ্বর বর্মনের বক্তব্য, ‘প্রামাণিকবাড়ির দুর্গাপুজোর সঙ্গে এলাকার মানুষের স্মৃতি জড়িয়ে রয়েছে।’
