নকশালবাড়ি: শান্ত দুপুরে হঠাৎই নেমে এল যমদূত। নিজের বাড়ির খুব কাছে মহিষ চড়াতে গিয়ে দলছুট হাতির কবলে পড়ে প্রাণ হারালেন ৩৯ বছর বয়সী এক যুবক। শুক্রবার মর্মান্তিক এই ঘটনাটি ঘটেছে নকশালবাড়ি থানার অন্তর্গত মারাপুর চা বাগানের টুকরা বস্তি এলাকায়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বনদপ্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে ফুঁসছে গোটা গ্রাম।
মৃত যুবকের নাম রঞ্জিত রাই। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এদিন দুপুরে বাড়ির ঠিক পাশেই কলাবাড়ি জঙ্গলের ধারের একটি ফাঁকা জমিতে বসে নিজের মহিষকে ঘাস খাওয়াচ্ছিলেন রঞ্জিত। হঠাৎ জঙ্গল থেকে একটি দলছুট হাতি বেরিয়ে সরাসরি তাঁর দিকে তেড়ে আসে। বাঁচার তাগিদে রঞ্জিত পালানোর চেষ্টা করলেও শেষ রক্ষা হয়নি। হাতিটি তাঁকে শুঁড়ে তুলে আছাড় মারে এবং পিষে দেয়।
গ্রামবাসীরা তড়িঘড়ি তাঁকে উদ্ধার করে নকশালবাড়ি গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। বর্তমানে দেহটি হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে এবং শনিবার ময়নাতদন্তের জন্য উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে পাঠানো হবে।
রঞ্জিতের অকাল মৃত্যুতে তাঁর ১৪ বছরের ছেলে আভাস রাই এবং পরিবারের ভবিষ্যৎ এখন অন্ধকারে। রঞ্জিতের বৌদি সুখমতি রাই কান্নায় ভেঙে পড়ে জানান, পশুপালন করেই তাঁদের সংসার চলত। বনদপ্তরের কাছে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণের দাবি জানিয়েছেন তিনি।
এলাকাবাসীর অভিযোগ:
- মাইকিং নেই: স্থানীয় পঞ্চায়েত সদস্য সুনীল মিঞ্চ অভিযোগ করেছেন যে, জঙ্গলে হাতি থাকলেও বনদপ্তরের পক্ষ থেকে আগে থেকে কোনো সতর্কবার্তা বা মাইকিং করা হয়নি।
- টহলদারির অভাব: ঘটনার সময় এলাকায় কোনো বনকর্মীর টহলদারি ছিল না বলেও দাবি করেছেন বাসিন্দারা।
- নিরাপত্তাহীনতা: জঙ্গলের ধারে বসবাসকারী প্রায় ২৫টি পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি তুলেছেন ক্ষুব্ধ গ্রামবাসীরা।
খবর পেয়ে এলাকায় পৌঁছান পানিঘাটা ও কলাবাড়ি বনাঞ্চলের কর্মীরা। যদিও তাঁদের ঘিরে দীর্ঘক্ষণ বিক্ষোভ দেখান গ্রামবাসীরা। পানিঘাটা রেঞ্জের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পুরো ঘটনার তদন্ত শুরু করা হয়েছে এবং নিয়ম অনুযায়ী পরিবারকে সহায়তার বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
