নাগরাকাটা: অভাব নিত্যসঙ্গী, কিন্তু সততাই যাঁর জীবনের আসল মূলধন। আর সেই সততার পথেই হেঁটে এক দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন গোরুবাথানের টার এলাকার বাসিন্দা পেশায় ক্ষুদ্র হাট ব্যবসায়ী প্রমোদ রাই। গত শুক্রবার নাগরাকাটার (Nagrakata) সাপ্তাহিক হাটে কুড়িয়ে পাওয়া সোনার গয়না ও স্মার্টফোন সম্বলিত একটি ব্যাগ প্রকৃত মালিকের হাতে তুলে দিয়ে সততার নজির গড়লেন তিনি।
ঘটনাটি ঘটেছিল গত শুক্রবার। নাগরাকাটা হাটে বাজার করতে এসেছিলেন সুখানী বস্তীর হাজারি লাইনের বাসিন্দা মনিলা তির্কী। বাজার করার ফাঁকে অজান্তেই তাঁর হাত থেকে ব্যাগটি পড়ে যায়। ব্যাগের ভেতর ছিল ৩টি সোনার কানের দুল, ১টি নাকফুল, স্মার্টফোন এবং বাড়ির আলমারির চাবি। সব মিলিয়ে যার বাজারমূল্য প্রায় দু’লক্ষ টাকার বেশি। ব্যাগ হারানোয় স্বাভাবিকভাবেই ভেঙে পড়েছিলেন ওই মহিলা।
রাস্তার ধারে ব্যাগটি পড়ে থাকতে দেখেন প্রমোদ বাবু। দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষার পর কেউ না আসায় তিনি ব্যাগটি নিজের বাড়িতে নিয়ে যান। তবে সততার পরিচয় দিয়ে তিনি মোবাইল ফোনের সুইচ বন্ধ করেননি। দু’দিন পর ওই ফোনে মলিলা দেবীর কল এলে প্রমোদ বাবু তাঁকে আস্বস্ত করেন যে সব জিনিস সুরক্ষিত আছে এবং পরের শুক্রবার হাটে এলে তা ফেরত দেবেন।
সেই কথা মতো শুক্রবার নাগরাকাটা থানায় প্রমোদ রাই ওই ব্যাগটি মনিলা দেবীর হাতে তুলে দেন। হারানো সম্পদ ফিরে পেয়ে চোখে জল চলে আসে মহিলার। প্রমোদ বাবু বলেন, “ব্যাগটি পাওয়ার পর আমার স্ত্রী সেলিনাকে সব জানাই। ও বলে—এসবের ওপর আমাদের কোনো অধিকার নেই, তাড়াতাড়ি ফেরত দিয়ে দাও। আমিও সেটুকুই করেছি।” অন্যদিকে মনিলা দেবীর কথায়, “এমন মানুষ আছে বলেই পৃথিবীটা আজও এত সুন্দর।”
নাগরাকাটা থানার পুলিশ কর্মীরাও প্রমোদ রাইয়ের এই মানসিকতাকে সাধুবাদ জানিয়েছেন। বর্তমান যুগে যখন লোভের কাছে বারবার নৈতিকতা হার মানছে, সেখানে প্রমোদ রাইয়ের এই কাজ অনেকের কাছেই অনুপ্রেরণা।
