রহিদুল ইসলাম, চালসা: পুজোর আগে চালু হচ্ছে না ডুয়ার্সের মূর্তি সেতু (Murti Bridge)। তবে ইংরেজি নতুন বছরের আগেই চালু হতে পারে সেতুটি। এখন জোরকদমে চলছে সেতু তৈরির কাজ। সেতু তৈরির বরাতপ্রাপ্ত ঠিকাদারি সংস্থার তরফে শ্যামল তরফদার বলেন, ‘পুজোর আগে সেতু চালু না হলেও আশা করছি চলতি বছরের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যেই সেতু তৈরির কাজ শেষ হয়ে যাবে।’ পূর্ত বিভাগের মালবাজারের সহকারী বাস্তুকার সিদ্ধার্থ মণ্ডল এই একই কথা জানিয়েছেন।
ডুয়ার্সের একটি অন্যতম পর্যটককেন্দ্র হল মূর্তি। সামনে গরুমারা জঙ্গল, পাশ দিয়ে বয়ে চলেছে মূর্তি নদী, নদীর ওপর মূর্তি সেতু। ‘বুসটিং ব্রিজ’-এর আদলে সেতুটি তৈরি হবে। মূর্তির এই অপরূপ প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের টানে দেশ-বিদেশের বহু পর্যটক আসেন মূর্তিতে। এতদিন মূর্তি সেতুর কাজ চলায় পর্যটকের সংখ্যা কম হচ্ছে। ফলে পর্যটন ব্যবসার সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত বহু মানুষের সমস্যা হচ্ছে।
রিসর্ট মালিকদের সংগঠন গরুমারা ট্যুরিজম ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের চিফ প্যাট্রন সোনা সরকার বলেন, ‘পর্যটকরা মূলত মূর্তি সেতুতে ঘুরতে আসেন। সেই সেতুর কাজ দেড় বছরের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু অনেক সময় লেগে যাচ্ছে। এলাকার পর্যটনশিল্পের উন্নয়নের স্বার্থে দ্রুত যাতে মূর্তি সেতুর কাজ শেষ করা হয়, সেই দাবি আমরা বহু আগেই করেছি।’ রাজা হক নামে এলাকার এক গাড়িচালক বলেন, ‘মূর্তি সেতু বন্ধ থাকায় নাগরাকাটা ঘুরপথে যাতায়াত করতে হচ্ছে। পুজোর আগে সেতুটি চালু হলে এলাকার পর্যটন ব্যবসার আরও উন্নতি হত।’
নতুন সেতুটিতে সাড়ে সাত মিটার রাস্তা ও দু’দিকে দেড় মিটার করে ফুটপাথ থাকবে। ২০২৩ সালের মার্চ মাস থেকে মূর্তির পুরোনো লোহার সেতু ভেঙে নতুন সেতুর কাজ শুরু হয়েছিল। মূর্তি নদীর ওপর চারটি বড় পিলার তৈরি করতে দীর্ঘ সময় লেগেছিল। গত বর্ষায় নদীতে জলের জন্য কাজে সমস্যা হয়। মাঝে সেতুর কাজ ধীরগতিতে হচ্ছিল বলে পর্যটন ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেছিলেন। সেতু তৈরির কাজ পরিদর্শনে আসেন বিধানসভার স্ট্যান্ডিং কমিটির সদস্যরা। এরপর কাজে কিছুটা হলেও গতি আসে।
