সেনাউল হক, মোথাবাড়ি: ফের ভাঙনের কবলে মোথাবাড়ি (Mothabari)-র পঞ্চানন্দপুরের চেতরুটোলা গ্রাম। সোমবার এই এলাকায় এক কিলোমিটারজুড়ে ভাঙন শুরু হয়েছে। আবাদি জমি, গাছপালা সহ বেশ কিছু এলাকা নদীগর্ভে চলে যায়। নদীভাঙনকে কেন্দ্র করে তীব্র আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে পঞ্চানন্দপুরের আশপাশের গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে। শনিবার থেকেই নদীভাঙন শুরু হয়েছিল। সেই ধারা এখনও অব্যাহত রয়েছে।
এদিন দুপুর দুটো নাগাদ পঞ্চানন্দপুরের চেতরুটোলা এলাকায় নতুন করে ভাঙন শুরু হয়। গঙ্গার পাড় থেকে লোকালয়ের দিকে প্রায় ৩০০ মিটার ভাঙনে তলিয়ে যায়। আতঙ্কিত হয়ে গ্রামবাসীরা বাড়িঘর ছেড়ে অন্যত্র সরে যেতে শুরু করেন। যাঁদের বাড়িঘর গঙ্গা থেকে সামান্য দূরে রয়েছে, তাঁরা ভাঙনের আতঙ্কে রাত জাগতে শুরু করেছেন। নজর রাখছেন গঙ্গার গতিবিধির উপর। দুই দশক পর চেতরুটোলার পাশাপাশি সুলতানটোলা, শোভানিটোলা গ্রামে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। গঙ্গা থেকে প্রায় ৩০-৪০ মিটার দূরেই রয়েছে গ্রামগুলি। আতঙ্কে রাতের ঘুম কেড়ে নিয়েছে এলাকার বাসিন্দাদের। এই এলাকায় তিনটি গ্রাম মিলিয়ে প্রায় ১৫ হাজারেরও বেশি মানুষের বসবাস। আতঙ্কে রয়েছে ৩ গ্রামের প্রায় ৫ হাজার পরিবার। নতুন করে ভাঙন শুরু হওয়ায় এলাকার বাসিন্দারা এখন পালা করে রাত জাগতে শুরু করেছেন।
গত রবিবার সেচ দপ্তরের আধিকারিকদের নিয়ে সরেজমিনে ভাঙন এলাকা পরিদর্শন করেন মোথাবাড়ির বিধায়ক তথা রাজ্যের মন্ত্রী সাবিনা ইয়াসমিন। আতঙ্কিত গ্রামবাসীদের সঙ্গে কথাও বলেন তিনি। মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা সেচ দপ্তরের আধিকারিকদের নিয়ে ভাঙন পরিদর্শন করেছি। বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা হয়েছে। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
স্থানীয় পঞ্চায়েত সদস্য সপ্তমী চৌধুরী ও তাঁর স্বামী শংকর সাহা জানান, গত শুক্রবার থেকে আচমকা ভাঙন শুরু হয়েছে। ইতিমধ্যে কলা বাগান, শাকসবজির বাগান জলে তলিয়ে গিয়েছে। জানা গিয়েছে, গঙ্গার ওপারে যে চর ছিল, তা গঙ্গার তীব্র স্রোতে ক্রমশ কেটে যাচ্ছে। ফলে গঙ্গার ধাক্কায় ভাঙন আরও তীব্র আকার ধারণ করছে।
স্থানীয় বাসিন্দা মধুবালা মণ্ডল বলেন, ‘প্রচণ্ড আতঙ্কে রয়েছি। সামান্য জমিতে ঘরবাড়ি তৈরি করে বসবাস করছিলাম। আবার ভাঙন শুরু হয়ে গিয়েছে। এখন কোথায় যাব ভেবে কূলকিনারা পাচ্ছি না।’ গ্রামের আরেক বাসিন্দা রাকেশ মণ্ডল বলেন, ‘রাতে কেউ ঘুমোতে পারছে না। রাত জেগে পাহারা দিতে হচ্ছে।’
এর আগে ২০০৩ সালে এই এলাকায় শেষবার ভাঙন দেখা গিয়েছিল। ওই সময় ভাঙনে পঞ্চানন্দপুরের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়। প্রচুর ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল। সেই সময় কেবি ঝাউবোনা নামে আস্ত একটি গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকা গঙ্গার ভাঙনে নিশ্চিহ্ন হয়ে গিয়েছিল। ফের আরও একবার এই এলাকায় নদীভাঙনকে কেন্দ্র করে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে।
