প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ইজরায়েলের সংসদে ভাষণ দিতে গিয়ে গাজার গণহত্যার প্রসঙ্গ উত্থাপন না করায় দেশে নিন্দার ঝড় উঠেছে। হামাস জঙ্গিদের খতম করার নাম করে যেভাবে ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বে গাজায় গণহত্যা সংঘটিত হয়েছে, তা ইতিহাসে বিরল। একটি জনগোষ্ঠীকে নিশ্চিহ্ন করার কাজে হাত দিয়েছেন তিনি।
আরও পড়ুন:
ইতিমধ্যেই গাজা ধ্বংসস্তূপে পরিণত। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শান্তি পরিকল্পনার মোড়কে ভূমধ্যসাগরের উপকূল ধরে গাজা ভূখণ্ডে ফ্রেঞ্চ রিভিয়েরার মতো পর্যটন কেন্দ্র বানানোর উদ্যোগ নিয়েছেন। এই কাজে তিনি নামিয়েছেন তাঁর রিয়েল এস্টেটের ব্যবসায়ী জামাইকেও। ট্রাম্পের এই ব্যবসায়িক উদ্যোগের সবচেয়ে বড় অংশীদার ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নিজে! ইজরায়েলের বরাবরের লক্ষ্য আমেরিকার সাহায্য নিয়ে বিশ্ব-মানচিত্র থেকে প্যালেস্টাইনের বাকি অস্তিত্বও মুছে দেওয়া। ওয়েস্ট ব্যাঙ্ক থেকেও প্যালিস্তিনীয়দের মুছে দিতে চেষ্টার কসুর করছেন না কোনও। সেখানে প্রতিদিন একটু একটু করে ইহুদি উপনিবেশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। প্যালেস্তিনীয়দের উপর নিপীড়ন চলছে ইজরায়েলি সেনার। গাজার পর ওয়েস্ট ব্যাঙ্কও ইজরায়েলের দখলে চলে এলে অার প্যালেস্তাইন রাষ্ট্রটির কার্যত কোনও অস্তিত্বই থাকবে না।
আরও পড়ুন:


ভারত বরাবর প্যালেস্টাইন রাষ্ট্রকে সমর্থন করে এসেছে। ইজরায়েল-প্যালেস্টাইন সংকটে ভারত দুই রাষ্ট্রের নীতির সমর্থক। কিন্তু এবারের মোদির ইজরায়েল সফরে গাজার গণহত্যার প্রসঙ্গটি উহ্য রাখার অর্থই হল ভারতের এযাবৎ কালের প্যালেস্টাইন নীতি থেকে সরে আসা। উপরন্তু মোদি যেভাবে নেতানিয়াহুর প্রতি সমর্থনের হাত বাড়িয়েছেন তা স্পষ্টতই বার্তাবহ। অর্থাৎ, ভারত যে ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রীর নীতির প্রতি সহমত, বিশ্বকে সেই বার্তা দিয়েছেন মোদি। তেল আভিভের অদূরে বেন গুরিয়ন বিমানবন্দরে নামার পরই মোদি উষ্ণ আলিঙ্গনে জড়িয়ে ধরেন তাঁকে। মোদিকে স্বাগত জানাতে নেতানিয়াহুও সস্ত্রীক বিমানবন্দরে হাজির ছিলেন। তাৎপর্যপূর্ণভাবে নেতানিয়াহুর স্ত্রী একটি গেরুয়া জ্যাকেট পরে বিমানবন্দরে যান।
ইজরায়েলের বরাবরের লক্ষ্য আমেরিকার সাহায্য নিয়ে বিশ্ব-মানচিত্র থেকে প্যালেস্টাইনের বাকি অস্তিত্বও মুছে দেওয়া।
আরও পড়ুন:
মোদির সফরকে নেতানিয়াহু নিজের স্বার্থে পুরোদমে ব্যবহারের চেষ্টা করেছেন। তাঁর গাজার গণহত্যার নীতির উপর তিনি এই সুযোগে ব্যধতার সিলমোহর বসিয়ে নিতে চেয়েছেন। তাছাড়া মোদি তাঁর ইজরায়েল সফরের জন্য এমন একটি সময় বেছে নিয়েছেন যখন আমেরিকা ইরানের উপর হামলা চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। ইজরায়েলের চাপেই ট্রাম্প অন্যায়ভাবে ইরানে হামলা চালাতে চাইছেন। ইরান দীর্ঘদিন ধরে ভারতের মিত্র দেশ। ইরানে মার্কিন হামলার মুখে মোদির ইজরায়েল সফর কার্যত পশ্চিম এশিয়ার ক্ষেত্রে ভারতের অবস্থান বদলের বার্তাই দিয়েছে। মোদি একদিকে গ্লোবাল সাউথের নেতৃত্ব দেওয়ার কথা বলে অন্যদিকে ভারতকে আমেরিকার সাম্রাজ্যবাদী নকশার অংশীদার করার জন্য উঠেপড়ে লেগেছেন। ভারতের মর্যাদার পক্ষে এটি হানিকর।
সর্বশেষ খবর
