তন্দ্রা চক্রবর্তী দাস, কোচবিহার: এমজেএন মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের (MJNMCH) ডায়ালিসিস ইউনিটের কঙ্কালসার চেহারা ৬ মাস পার হতে না হতেই প্রকাশ্যে চলে এল। তাও আবার তা ধরা পড়েছে স্বাস্থ্য দপ্তরের বিশেষ পরিদর্শনে। গত বছর ৮ জুলাই ঘটা করে সম্প্রসারিত ডায়ালিসিস ইউনিটের (Dialysis Unit) উদ্বোধন হয়। রোগীদের উন্নতমানের পরিষেবা দেওয়ার জন্য সেখানে নতুন করে বাড়ানো হয় আরও ১৫টি শয্যা। এই পরিষেবা নিয়ে বেশ লম্বা ফিরিস্তিও দিয়েছিল মেডিকেল কর্তৃপক্ষ। হাসপাতাল চত্বরে রীতিমতো মাইক লাগিয়ে মঞ্চ বেঁধে অনুষ্ঠান করে এর প্রচারও করে তারা।
রাজ্য স্বাস্থ্য দপ্তরের বিশেষ পরিদর্শনে ডায়ালিসিস ইউনিট নিয়ে প্রায় একডজন অভিযোগ তোলা হয়েছে। এই ডায়ালিসিস ইউনিট দেখে প্রচণ্ড অসন্তুষ্ট পরিদর্শকরা। ২৪ ঘণ্টা একজন মেডিকেল অফিসার সেখানে থাকার কথা। কিন্তু কাউকে ভিজিটের সময় খুঁজে পাওয়া যায়নি। ডায়ালিসিস ইউনিটে নেফ্রোলজিস্ট ভিজিটের কোনও রেকর্ড নেই। শুধু তাই নয়, সেখানে এক একজন পেশেন্টের কতক্ষণ ডায়ালিসিস হচ্ছে তারও কোনও রেকর্ড নেই। সেটা দেখার জন্য যে মেশিন রয়েছে সেটি বন্ধ করা।
ওই পরিদর্শনের সময় উঠে এসেছে আরও একটি ভয়ংকর তথ্য। সেখানের টেকনিসিয়ানদের মাত্র একজনই প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত, বাকি দুজন প্রশিক্ষণের মানোত্তীর্ণ নয়। এ ধরনের আর বেশ কিছু গাফিলতি নজরে আসায় প্রায় চোখ কপালে ওঠার জোগাড় পরিদর্শনকারীদের। এইসব অভিযোগের ভিত্তিতে পিপিপি মডেলে চলা ওই ডায়ালিসিস ইউনিটের দায়িত্বে থাকা বেসরকারি সংস্থা এস্ক্যাগ সঞ্জীবনী প্রাইভেট লিমিটেডকে শোকজ করেছেন হাসপাতালের এমএসভিপি ডাঃ সৌরদ্বীপ রায়।
প্রশ্ন উঠছে, যে প্রশ্নগুলো স্বাস্থ্য দপ্তরের বিশেষ দল তুলেছে, সেই গাফিলতিগুলো এতদিন কেন মেডিকেল কলেজের নজরে এল না। তাদের দায়িত্ব ছিল গোটা ব্যবস্থাকে সুন্দর করে বুঝে নেওয়া। তাহলে কি নিজেদের দায়িত্ব এড়ানোর জন্য এই দায়ভার ঠেলে দেওয়া হচ্ছে বেসরকারি ওই সংস্থার উপরে? খুব স্বাভাবিকভাবেই এই প্রশ্ন এখন উঠছে।
হাসপাতালে এর আগেই পাঁচটি ডায়ালিসিসের শয্যা ছিল। সেগুলো মাঝেমধ্যেই নষ্ট হয়ে থাকত আর রোগীদের হয় দিনহাটা মহকুমা হাসপাতালে, নয়তো অন্য বেসরকারি নার্সিংহোমে যেতে হত। পরবর্তীতে সেখানে ১৫ ডিসেম্বর থেকে নতুন করে ১৫টি শয্যার ডায়ালিসিস ইউনিট একটি বেসরকারি সংস্থার সঙ্গে শুরু করার কথা থাকলেও শেষপর্যন্ত শুরু হয় ২০২৫ সালের ৮ জুলাই। ডায়ালিসিস ইউনিটে যে আরও একটি মারাত্মক অভিযোগ উঠেছে তা হল, সেখানে রোগীদের অনেকেই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ছাড়াই সেখানে পরিষেবা নিচ্ছেন।
কী করে এই ধরনের গাফিলতি কারোর নজর এড়িয়ে যায় সেই বিষয়ে জানতে চাইলে এমএসভিপি বলেন, ‘ওই সংস্থা শোকজের যে উত্তর দিয়েছে তাতে আমরা সন্তুষ্ট নই। আমরা রোগীদের পরিষেবার দিকে জোর দিয়েছিলাম। নতুন অবস্থায় এ ধরনের ভুলভ্রান্তি হতেই পারে। তবে আমরা এখন থেকে সবকিছু ভালো করে দেখে নেব।’ তিনি জানান, আগামী ১৫ তারিখ একটি মিটিং ডাকা হয়েছে সেখানে রোগীকল্যাণ সমিতির সদস্যও থাকবেন। সকলের সঙ্গে আলোচনা করে এই বিষয়ে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বেসরকারি সংস্থার ডায়ালিসিস ইউনিটের অপারেশন ও মার্কেটিং ম্যানেজার হিন্দোল বিশ্বাসের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি প্রশ্ন শুনে ফোন কেটে দেন। পরে আরও চারবার তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন আর ধরেননি। তবে সেন্টারের ম্যানেজার অভয় দে জানিয়েছেন, এ বিষয়ে তাঁর কিছুই জানা নেই। তিনি খোঁজ নিয়ে দেখবেন।
