ডালখোলা: চুরির সন্দেহে (Theft Allegation) চার নাবালককে বেধড়ক মারধরের (Minor Assaulted Dalkhola) অভিযোগ উঠল এক বিজেপি নেতা ও তাঁর সঙ্গীদের বিরুদ্ধে। বৃহস্পতিবার রাতে ডালখোলা পুরসভা এলাকার ৯ ও ১০ নম্বর ওয়ার্ডে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। গুরুতর জখম অবস্থায় চার নাবালক বর্তমানে চিকিৎসাধীন। এই ঘটনায় মূল অভিযুক্ত বিজেপি নেতা অর্জুন সরকারের ভাই নকুল সরকারকে আটক করেছে ডালখোলা থানার পুলিশ।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বৃহস্পতিবার রাতে চুরির অভিযোগে চার নাবালককে আটক করেন অর্জুন সরকার ও তাঁর অনুগামীরা। অভিযোগ, এরপর তাদের ওপর অমানবিক অত্যাচার চালানো হয়। শুক্রবার সকালে আক্রান্ত নাবালকদের পরিবার ডালখোলা থানায় অর্জুন সরকার, নকুল সরকার, গোকুল সরকার, কৌশিক সরকার, বিক্কি মাহাতো এবং তুষার কান্তি সাহার বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। ঘটনার পর থেকেই মূল অভিযুক্ত অর্জুন সরকারসহ বাকিরা গা ঢাকা দিলেও পুলিশ নকুল সরকারকে আটক করতে সক্ষম হয়েছে।
অভিযুক্ত অর্জুন সরকার সংবাদমাধ্যমের কাছে দাবি করেন, তাঁর বাইকের শোরুমে বারংবার চুরির ঘটনা ঘটছে। পুলিশের কাছে অভিযোগ জানিয়েও কোনো সুরাহা মেলেনি। এমনকি সম্প্রতি একটি চুরির ঘটনায় পুলিশ অভিযোগ নিতেও অস্বীকার করে বলে তাঁর দাবি। সেই ক্ষোভ থেকেই নাবালকদের জিজ্ঞাসাবাদ ও মারধরের ঘটনা ঘটেছে। তবে নাবালকদের গায়ে হাত তোলা ঠিক হয়নি বলে তিনি স্বীকারও করে নিয়েছেন।
এদিকে এলাকায় পুলিশের নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে সাধারণ মানুষের ক্ষোভ চরমে। ৭ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলরের আত্মীয়র বাড়ি থেকে শুরু করে স্থানীয় স্কুলে চুরির ঘটনা ঘটলেও পুলিশ কোনো কিনারা করতে পারেনি বলে অভিযোগ এলাকাবাসীর।
নিগৃহীত এক নাবালকের মা সঞ্জা বাসফোর কান্নায় ভেঙে পড়ে বলেন, “আমরা পরের বাড়িতে সাফাইয়ের কাজ করে সংসার চালাই। আমার ছেলেকে যে নৃশংসভাবে মারা হয়েছে, তাকে সুস্থ করার মতো টাকা আমাদের কাছে নেই।” দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন নিগৃহীতদের পরিবার। ডালখোলা থানার পুলিশ পুরো ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।
