শুভ্রজিৎ বিশ্বাস, মেখলিগঞ্জ: তিস্তা নদীর চরে তরমুজ চাষে আগ্রহ বেড়েছে চাষিদের। লাভের আশায় আরও বেশি পরিমাণ জায়গায় এই তরমুজ চাষ করছেন মেখলিগঞ্জের চাষিরা। বাদ যায়নি মেখলিগঞ্জ ব্লকের (Mekhliganj) নিজতরফ গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকাও। চাহিদা ভালো থাকায় তিস্তা নদীর চরে প্রতি বছর ব্যাপক মাত্রায় তরমুজ চাষ করেন এই এলাকার চাষিরা। এখানে উত্পাদিত তরমুজ শুধু স্থানীয় বাজারে নয়, সম্পূর্ণ রাজ্যের পাশাপাশি বিহার, উত্তরপ্রদেশ, অসম সহ অন্য রাজ্যেও বিক্রি হয়।
মেখলিগঞ্জের অ্যাসিস্ট্যান্ট ডিরেক্টর অফ হর্টিকালচার সন্দীপ মহন্ত বলেন, ‘সরকারের তরফে তরমুজচাষিদের এবছর হাইব্রিড বীজ সরবরাহ করা হয়েছে। আবহাওয়া আপাতত তরমুজ চাষের জন্য অনুকূল রয়েছে। এরকম চললে এবছর তরমুজের ফলন খুব ভালো হবে বলে আশা করছি।’
তরমুজ চাষের প্রতি মেখলিগঞ্জের কৃষকদের আগ্রহ বাড়াতে গত বছর মেখলিগঞ্জ মহকুমা প্রশাসনের তরফে তরমুজ উৎসবের আয়োজন করা হয়েছিল। মেখলিগঞ্জে তরমুজ চাষ ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই চাষের ওপর বছরের পরবর্তী চাষাবাদ নির্ভর করে। এবছর আবহাওয়া অনুকূল থাকায় ইতিমধ্যে তিস্তা নদীর চর এলাকায় প্রচুর পরিমাণে তরমুজ চাষ করেছেন মেখলিগঞ্জের চাষিরা। লাভের মুখ দেখার আশায় দিন গুনছেন তাঁরা।
যদিও এই এলাকার চাষিদের অর্থনৈতিক অবস্থা খুব একটা ভালো নয়। তাই অনেকসময় চাষিরা চড়া সুদে ঋণ নিয়ে তরমুজ চাষ করেন। ফলে ফলন ভালো হলেও ঋণদাতার কাছে কম দামে তরমুজ বিক্রি করতে বাধ্য হন চাষিরা। এই সমস্যার সমাধানে সরকারি সহযোগিতার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
মেখলিগঞ্জ ব্লকের নিজতরফ গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার চাষি অখিল সরকার বলেন, ‘মেখলিগঞ্জ এলাকায় সাধারণত কৃষকরা বিভিন্ন জায়গা থেকে ঋণ নিয়ে ব্যাপক মাত্রায় তরমুজ চাষ করেন। গত মরশুমে তরমুজ চাষ করে লাভের মুখ দেখেছি। তাই এবছর আরও বেশি পরিমাণে তরমুজ চাষ করছি। গতবার যেখানে ১৭০০টি চারা লাগিয়েছিলাম এবছর ১২ বিঘা জমিজুড়ে ৩৫০০টি চারা লাগিয়েছি।’ আরেক তরমুজচাষি পঞ্চা বর্মন জানান, গত মরশুমে তিনি প্রায় ৭ বিঘা জমিতে তরমুজ চাষ করেছিলেন। এই তরমুজ ভিনরাজ্যেও যায় তাই গতবার বেশ ভালোই লাভের মুখ দেখেছিলেন তিনি। এবছর তিনি প্রায় ১৫ বিঘা জমিতে তরমুজ চাষ করেছেন। আবহাওয়া অনুকূল থাকায় আশা করছেন এবছর আরও বেশি লাভ হবে।
